মুক্তিযুদ্ধের সুহৃদ আলোকচিত্রী

নয় মাসের রক্তস্নাত যুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশের পেছনে ছিল নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার গল্প। এমনই একজন অমিয় তরফদার। একাত্তরের দিনগুলিতে বন্দুকের বদলে ক্যামেরা ছিল যার অস্ত্র। পাকিস্তানি বর্বরতার চিত্র, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা, শরণার্থী শিবির, মুক্ত এলাকা, গেরিলা ক্যাম্প, যুদ্ধের ময়দান ঘুরে যুদ্ধবাস্তবতার নির্মমতা উঠে আসে তার ছবিতে। মুক্তিযুদ্ধের এই পরম সুহৃদের তোলা অনেক ছবি আন্তর্জাতিক সংবাদচিত্র হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়তে রেখেছে অনন্য অবদান। লিখেছেন সাহাদাত পারভেজ

অমিয় তরফদার ছিলেন স্পোর্টস ফটোগ্রাফার। অলিম্পিক গেমস কাভারে তিনি তখন জাপানে অবস্থান করছিলেন। সেখানকার পত্রিকায় ২৫ মার্চের নির্মমতার চিত্র দেখে তার রক্তে চাঞ্চল্য জাগে। তিনি মাটির টান অনুভব করেন। নিজের দেশের মানুষের ওপর এমন নৃশংসতার কথা ভেবে তার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। জাপানের সমস্ত ট্রিপ বাতিল করে তিনি ছুটে এলেন বাংলাদেশে। একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে পাকিস্তানি বর্বরতার ছবি ধারণের পাশাপাশি তিনি মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা, শরণার্থী শিবির, মুক্ত এলাকা, গেরিলা ক্যাম্প ও যুদ্ধের ময়দান ঘুরে যুদ্ধবাস্তবতার রূপ ক্যামেরায় তুলে ধরেন। তার তোলা অনেক ছবি আন্তর্জাতিক সংবাদচিত্র হিসেবে বিশ্বের মানুষের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের বাস্তবতা মেলে ধরেছিল। রিকশার ওপর পড়ে থাকা মরদেহ রক্তহিমকরা এই ছবি পাকিস্তানি গণহত্যার প্রতীক হয়ে আছে। দেশের মাটিতে পা রেখে বঙ্গবন্ধুর আবেগঘন মুহূর্তটিও আইকনিক আলোকচিত্র হিসেবে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে তার ক্যামেরায় ধরা শত্রুর পেছনে ধাবমান মুহূর্তটি যেন বিজয়ের পূর্বাভাস দেয়।

শেকড়ের টান

আমিয় তরফদারের শেকড় বাংলাদেশে। অবিভক্ত বাংলার রাজশাহী জেলার নওগাঁ মহকুমার রসুলপুর গ্রামে ১৯২৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শিবেশ্বর তরফদার ও মা মনোরমা তরফদার। শৈশব-কৈশোর গ্রামের নরম মাটিতে, স্কুল পর্বও ওখানেই। রসুলপুর পাঠশালা থেকে প্রাথমিক পাঠ শেষে নওগাঁ কে ডি হাই স্কুল থেকে ১৯৪৬ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরের বছর কলকাতা বঙ্গবাসী কলেজে ভর্তি হন। কলেজে পড়ার সময়ই চিত্রসাংবাদিকতায় তার হাতেখড়ি। দেশ বিভাজনের টানাপড়েনে পড়ে তিনি ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। রাজনৈতিক কারণে এপার-ওপার মানতে হয়। কিন্তু সুযোগ পেলেই তিনি জন্মভিটায় আসতেন, আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নিতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম বাসন্তি তরফদার।

বাংলাদেশে প্রবেশ

মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে তিনি শত্রুঘেরা বাংলাদেশে কেমন করে প্রবেশ করলেন তা এক শ্বাসরুদ্ধকর রূপগল্পের মতো। মার্চের শেষে তিনি জাপান থেকে সরাসরি কলকাতায় আসেন। সেখানে ক্যামেলিয়া (১৯৬০-২০০০ সালে) নামে তিনি একটি স্টুডিও চালাতেন। তার পরিবার থাকত দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে। এপ্রিলের শুরুতে হিলি বর্ডার দিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেই সময়ে হিলি বর্ডার দিয়ে দুদেশের মানুষের অবাধ যাতায়াত ছিল। কিন্তু গণহত্যা শুরুর পর হানাদার বাহিনী সীমান্ত এলাকা ‘সিল’ করে দেয়। হিলিতে তার এক দিদি থাকতেন। দিদিকে বললেন, ‘আশপাশে যে গণহত্যা হচ্ছে তার ছবি তুলব।’ দিদি বললেন, ‘যাও, তবে বেশি ঝুঁকি নিয়ো না। দুপুর হয়ে গেছে। তুমি ভাত খেয়ে যাও।’

অমিয় তরফদার বললেন, ‘তুমি ভাত বাড়ো, আমি এক্ষুনি আসছি।’ পাজামা আর গেঞ্জি পড়েই ক্যামেরাটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। হিলি স্টেশনে গিয়ে দেখলেন বাংলাদেশ সীমান্তে একটি পতাকা পত পত করে উড়ছে। এগিয়ে গিয়ে ছবি তুললেন। এভাবে আগাতে আগাতে তিনি একেবারে জনতার মাঝখানে চলে গেলেন। সবাই বলাবলি করতে লাগল ভারতীয় সাংবাদিক এসেছে। অনেকেই বলল, আপনি এখনই চলে যান, না হলে বিপদে পড়বেন। কিছুক্ষণ পর পুরো এলাকা ফাঁকা হয়ে গেল। কয়েকজন লোক তাকে প্রায় পাঁজা করে সরিয়ে নিয়ে এলো। হানাদারদের হাত থেকে বাঁচার জন্য একটি বাঁশঝাড়ের ভেতর লুকিয়ে থাকলেন। বাঁশঝাড় থেকে বেরিয়ে দেখলেন ওরা পতাকা সমেত বাঁশটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

পাকিস্তানি বর্বরতা

তিনি ভারতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু সীমান্ত এলাকায় হানাদাররা কড়া প্রহরা বসানোয় তা সম্ভব হলো না। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বললেন, ‘আপনি এদিক দিয়ে যেতে পারবেন না। অন্য দিক দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেব।’ তারা জিপে করে অনেক পথ ঘুরে চেষ্টা করলেন। কিন্তু কোনোভাবেই হিলিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব হলো না। দিদিকে বলে এসেছিলেন ভাত বাড়তে; কিন্তু এসে আটকে গেলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বললেন, ‘আমার আরও ছবি তোলার ইচ্ছে আছে।’ মুক্তিযোদ্ধারা তখন তাকে দিনাজপুরে নিয়ে গেলেন। দিনাজপুরে গ্রামের পর গ্রাম আগুন জ¦লছে। কিন্তু তিনি এই ভয়াল দৃশ্যের ছবি তুলতে পারলেন না। কারণ পথে পথে হানাদার ও রাজাকাররা জিপ থামিয়ে তল্লাশি করছিল। এই সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছিল কে রাজাকার আর কে মুক্তিযোদ্ধা তা বুঝতে পারা। দিনাজপুরে ঢুকতেই বিকেল। রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য লাশ। কারও মাথা নেই, কারও পা নেই। কারও পা, মাথা, হাত, চোখ ছিন্নবিচ্ছিন্ন। নড়াচড়া দেখে মনে হলো কেউ হয়তো তখনো বেঁচে আছে। রাস্তার পাশের খালে কচুরিপানার নিচে অনেক মানুষ। কেউ মৃত কেউ অর্ধমৃত। এদের বাঁচানোর কেউ নেই। একটু দূরে কয়েকটি রিকশার ওপর গাদাগাদিভাবে পড়ে আছে অনেকগুলো লাশ। অশ্রুভেজা চোখে তিনি অনেকগুলো ছবি তুললেন। পুরো এলাকায় তখনো আতঙ্ক। শত্রুরা যে কোনো সময় চলে আসতে পারে। তাই মুক্তিযোদ্ধারা এখান থেকে দ্রুত সরে পড়ার জন্য তাগাদা দিচ্ছিলেন। তারা তাকে নিয়ে গেলেন এক গ্রামের ভেতর, যেখানে কিছুক্ষণ আগে রাজাকাররা আগুন লাগিয়ে দিয়ে গেছে।

তখন প্রায় সন্ধ্যা। মুক্তিযোদ্ধারা বললেন, ‘আপনি তো আর ভারতে ফিরে যেতে পারবেন না, চলুন আপনাকে আরেকটা জায়গায় নিয়ে যাই।’ ওই এলাকায় তখন মুক্তিযুদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন সগনলাল লহিয়া নামের এক মাড়োয়ারি। তাকে সবাই আগারওয়াল বলে ডাকতেন। মুক্তিযোদ্ধারা তাকে আগারওয়ালের কাছে নিয়ে গেলেন। কেমন করে সীমান্ত পার হয়ে এপারে এলেন শুনে তিনি আঁতকে উঠলেন। আরও ছবি তুলতে চান শুনে আগারওয়াল দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিরাপত্তার জন্য অমিয় তরফদারের সঙ্গে দিলেন। গ্রামগুলোতে তখনো আগুন জ¦লছে। তারা তাকে একটি নদীর ধারে নিয়ে গেলেন। জল্লাদবাহিনী কারও কোমর, কারও গলা পর্যন্ত গর্ত করে বালিচাপা দিয়ে পরে ব্রাশফায়ারে এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। এদের অধিকাংশই নারী। রক্তে ভিজে গেছে পুরো এলাকা। সঙ্গে ফ্ল্যাশ না থাকায় অন্ধকারে ছবি তোলা সম্ভব হলো না। ক্যামেরায় ধরতে না পারলেও তিনি মনের ভেতর গেঁথে নিলেন সেই দৃশ্য। রাতে মাড়োয়ারির বাড়িতে ফিরে এলেন। বিশাল একটি টিনের ঘরে মই দিয়ে তাকে পাটাতনের ওপর তুলে দেওয়া হলো। টিনের চালের নিচের পাটাতনে অসংখ্য নারী-শিশু-বৃদ্ধ নিঃশব্দে শুয়ে আছে। এই বাড়িতে যে ভারতীয় সাংবাদিক আছেন তা এলাকায় জানাজানি হয়ে গেছে। এতে মুক্তিযোদ্ধারা বেশ দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েন। রাত ২টার দিকে পাটাতন থেকে নিচে নেমে এসে অমিয় তরফদার বললেন, ‘আমার জন্য এত চিন্তা করার দরকার নেই। এদেশের জন্য আমার শহীদ হতেও ভয় নেই।’ ভোরবেলায় দুই মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে অমিয় তরফদার গেলেন রাধিকাপুরে। সেখানে তিনদিন কাটিয়ে ভারতে ফিরে গেলেন। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে তিনি পাঁচবার বাংলাদেশে ঢুকে ছবি তুলেছেন।

দ্বিতীয় দফা প্রবেশ

দ্বিতীয়বার প্রবেশের সময় তিনি যখন হিলি বর্ডারে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন তখন একটি ছেলে তাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। তিনি ছেলেটির প্রতি ক্ষুব্ধ হলেন। ছেলেটি তখন আঙুল দিয়ে কিছু একটা দেখানোর চেষ্টা করল। অমিয় তরফদার দেখলেন, তিনজন পাকিস্তানি আর্মি তাকে গুলি করার জন্য রাইফেল তাক করে আছে। তার ভেতরটা হিম হয়ে গেল। বাংলাদেশের এক অচেনা ছেলের কারণে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেন। ছেলেটির কথা প্রায়ই তার মনে পড়ত এবং কৃতজ্ঞতায় মাথা নুয়ে আসত। পরবর্তী সময়ে তার প্রায়ই মনে হতো, সেদিন তিনি পুনর্জন্ম লাভ করেছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী যখন আত্মসমর্পণ করল তার আধাঘণ্টা পর তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছলেন। ফলে তিনি আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিক ছবি তুলতে পারলেন না। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে তিনি ঢাকায় ছিলেন। তেজগাঁও বিমানবন্দর ও রেসকোর্স ময়দানে ছবি তুলে ফেরার সময় প্রচন্ড ধাক্কাধাক্কিতে তার পা ভেঙে যায়। এই খবর বঙ্গবন্ধুর কান পর্যন্ত পৌঁছায়। বঙ্গবন্ধু হেলিকপ্টারে করে তাকে ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

আন্তর্জাতিক প্রকাশনা

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি একশ রোলের মতো ছবি তুলেছিলেন। তিনি প্রায়ই বাসযাত্রীদের মাধ্যমে কলকাতায় ফিল্ম পাঠাতেন। ফিল্মগুলো গ্রহণ করতেন তার ছোট ভাই শেখর তরফদার। ৪০ রোল ফিল্ম রাজাকাররা বিভিন্ন সময় ছিনিয়ে নেয়। শেষের দিকেও তার কাছে ৫০টির মতো রোল ভালো অবস্থায় ছিল। ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টেটসম্যান রিকশায় পড়ে থাকা লাশের ছবিটি অমিয় তরফদারের নামে প্রকাশ করে। ক্যাপশনে লেখা ছিল Cycle rickshaw pullers and their passengers shot dead by Pakistani troops on the way to Saidpur, in Dinajpur- Photograph by Amiya Tarafdar। ক্যাপশনে দিনাজপুরের সৈয়দপুরের কথা উল্লেখ থাকলেও ছবিটি আসলে শহরের ঘাসিপাড়া থেকে তোলা। এই ছবি ছাপা হওয়ার পর চারদিকে হইচই পড়ে যায়। ছবিটির জন্য নিউজউইক থেকে শেখর তরফদারের কাছে ফোন আসে। তিনি রেডিও ফটো করে ছবিটি পাঠান। এরপর ছবি চেয়ে টাইম ম্যাগাজিন থেকে ফোন। ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল প্রকাশিত টাইমের ৩৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ছবিটি ছাপা হয়। ছবির ক্যাপশনে টাইম ম্যাগাজিন বিশ^বাসীর কাছে মানব পাটিগণিতের একটি প্রশ্ন রাখে East Pakistan Bombing victims in Pedicabs. A question of human arithmetic। মে মাসে আসামের যুগশক্তি পত্রিকায়ও ছবিটি ছাপা হয়। এছাড়া তার বেশিরভাগ ছবি হেরার্ল্ড ট্রিবিউন, নিউ ইয়র্ক টাইমস ও লা ফিগারে ছাপা হয়, যা বিশ^জনমতকে যুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার করে তুলেছিল।

সম্মাননা ও প্রদর্শনী

বাংলাদেশে তার প্রথম প্রদর্শনী হয় ১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাসে। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ৭৮টি ছবি দিয়ে ‘অমিয় তরফদারের ক্যামেরায় ১৯৭১’ শিরোনামের মাসব্যাপী ওই প্রদর্শনীর আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। জাদুঘরের আমন্ত্রণে তিনি ঢাকায় এসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে তিনি যুক্ত ছিলেন, এ কথা ভেবে মনে শিহরণ জাগে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভাবতেন, ক্যামেরা ফেলে বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ করতে পারলে জীবন সার্থক হতো। স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা ভাঙা বন্দুক ও লাঠি নিয়ে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তার তুলনা হয় না। তাদের সাহস দেখে গর্বে তার বুক ভরে গিয়েছিল। তিনি যখন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ঘুরছিলেন তখন ভারতের পত্রিকায় একবার তার মৃত্যুর সংবাদও ছাপা হয়ে যায়। তিনি জীবিত ফিরে যেতে পারবেন এ বিশ্বাস তার ছিল না। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সালের বন্ধু হিসেবে তাকে বিশেষ সম্মাননা জানায়। অমিয় তরফদারের হয়ে সেই পুরস্কার গ্রহণ করেন শেখর তরফদার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দৃকের ৩৩তম জন্মদিন উপলক্ষে অমিয় তরফদারের অদেখা ছবি দিয়ে ‘দ্য লং জার্নি হোম’ শিরোনামে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

দেহাবসান

স্পোর্টস ফটোগ্রাফার হওয়ায় ভারতের ক্রীড়াজগতে তিনি সবার প্রিয় ‘দাদা’ হয়ে উঠেছিলেন। অলিম্পিক গেমসের পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকবার বিশ^কাপ ফুটবল কাভার করেছেন। ছবি তোলার সুবাদে ফুটবলের মহাতারকা ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুনিল গাভাসকারের ওপর তার একটি ছবির বই রয়েছে। ২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর ৭৭ বছর বয়সে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এই পরম সুহৃদের দেহাবসান ঘটে।