দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর একজন উঠলেন চূড়ায়, অন্যজন নিলেন বিদায়। বিদায়ী ২০২২ বছরটা মহামারীর আতঙ্ক থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রথম ধাপ। এই বছরটাতেই টেনিসকে বিদায় বলে দিলেন রজার ফেদেরার। একই বছরে ২২তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতে পুরুষ এককে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী হিসেবে হিমালয়ের চূড়ায় পৌঁছে গেলেন রাফায়েল নাদাল।
৫ জুন ২০২২, নাদালের চূড়ায় পৌঁছবার দিন। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ফেদেরারের বিদায় নেওয়ার দিন। এই দুটো তারিখই যথেষ্ট বিদায়ী বছরে টেনিসের পর্যালোচনায়। বছরের শুরুতে নোভাক জকোভিচ, রজার ফেদেরার আর রাফায়েল নাদাল, দুজনেরই গ্র্যান্ডস্ল্যাম সংখ্যা ২০। জকোভিচ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগের বছরেরসহ রেকর্ড ৯ বার চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে নাদাল ২০০৯ সালের পর আর কখনোই অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতেননি এবারের আগে। মহামারী পরবর্তী পৃথিবী একটা সুযোগই এনে দিল নাদালকে। কভিড-১৯ টিকা না নেওয়াতে অস্ট্রেলিয়াতে প্রবেশ করতে দেওয়া হলো না আর চোটের কারণে অংশ নিলেন না ফেদেরার। ফাইনালে দানিল মেদভেদভকে হারিয়ে ২১তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতে নিলেন নাদাল, ছাড়িয়ে গেলেন জকোভিচ ও ফেদেরারকে।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর সূচিতে ফ্রেঞ্চ ওপেন। নাদালের লাল দুর্গ, এখানেই তিনি একচ্ছত্র অধিপতি। এই বছরের আগে ফ্রেঞ্চ ওপেন নাদাল জিতেছিলেন ১৩ বার, ফেদেরার মাত্র একবার আর জকোভিচ দুইবার। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নাদালের হাতে শিরোপা ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আসলে নিশ্চিত হয়ে যায় নাদাল ২২তম গ্র্যান্ডস্ল্যামও জিতবেন!
ফেদেরার ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকেও নামটা প্রত্যাহার করে নেন শেষ মুহূর্তে। কোয়ার্টার ফাইনালে নাদাল হারান জকোভিচকে। ফাইনালে নাদাল পেলেন প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ডস্ল্যামের ফাইনালে খেলতে নামা নরওয়ের ক্যাসপার রুদকে। তাকে ৬-৩, ৬-৩, ৬-০ গেমে হারিয়েই ২২তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতে সবার উপরে পৌঁছে গেলেন রাফায়েল নাদাল। ১৪তম বারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে মায়োরকার ম্যাটাডোর নিজের রেকর্ডটা আরেকটু বাড়িয়েও নিলেন।
ওদিকে ২০২১ সালের উইম্বলডনের কোয়ার্টার ফাইনালে হুবার্ট হুরাকজের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর আর কোর্টে নামেননি ফেদেরার। পেশাদার ক্যারিয়ার শুরুর পর প্রথমবারের মতো শীর্ষ বাছাই ৫০ খেলোয়াড়ের বাইরে চলে যায় ফেদেরারের নাম। ফেডেক্স বোধ হয় বুঝতে পারছিলেন, এবার থামার পালা। টুইটারে আবেগঘন বার্তায় শেষের ঘোষণা জানান ফেদেরার, দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রতিপক্ষ রাফায়েল নাদালকে ডাবলস পার্টনার করে লেভার কাপে জ্যাক সক আর ফ্রান্সিস তিয়াফোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ফেদেরার।
এই বছরই ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন অ্যাশলে বার্টি, এই বছরই খেলা ছেড়ে এখন অস্ট্রেলিয়ার এক টেলিফোন সংস্থায় চাকরি করছেন। পোল্যান্ডের ইগা সোয়াতেক এই বছর ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যামের দেখা পেয়েছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনে, এরপর জিতেছেন ইউএস ওপেনও। উইম্বলডনের শিরোপা উঠেছে এলেনা রিবাকিনার হাতে, কাজাখস্তানের এই মেয়ে প্রথম কাজাখ টেনিস খেলোয়াড় হিসেবেই কোনো গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতলেন। এই বছরে ফেদেরারের সঙ্গে খুব সম্ভবত ইতি ঘটল সেরেনা উইলিয়ামসের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারেরও। ইউএস ওপেনে আইলা তোমিলিয়ানভিচের কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচটাই খুব সম্ভবত সেরেনার শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।