জয়-পরাজয়ের প্রশ্নটি, পুনর্বার

নিয়মটা তো এই রকমেরই ধেয, একপক্ষ জয়ী হলে অন্যপক্ষ পরাজিত হবে এবং এ নিয়মেও মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত যে, জয়ীর সংখ্যা হবে অল্প, পরাজিতদের সংখ্যা অধিক। তা বাংলাদেশে জয়ী হয়েছে কারা, কারা ওই অল্পসংখ্যক লোক যারা পরাজিত করেছে বিপুলসংখ্যক দেশবাসীকে?

এ প্রশ্নের মীমাংসা মোটেই জটিল নয়, বরং খুবই সহজ। যেদিকে তাকাই দেখতে পাব জয়ীদের এবং সঙ্গে সঙ্গে দূরে নয়, কাছেই, বলা যাবে পাশেই চোখ পড়বে পরাজিতদের। এই শহরে তিন কোটি টাকা দামের গাড়িও চলে। দাম জানি না, নিরূপণের সুযোগ নেই, যারা জানেন তারা বলেন। এরাই তো জয়ী, এই বিত্তবানরা। আর পাশেই, ওই গাড়ি যখন যানজটের জন্য থেমে যায় তখনই চোখে পড়বে জীর্ণশীর্ণ কিশোরীকে, যে ফুল বিক্রি করে, তিনশ নয়, তিরিশও নয়, তিন টাকা পেলেই বর্তে যায়। এই যে তিন কোটি টাকা ও তিন টাকা এ কোনো স্থির ছবি নয়, সহ-অবস্থানের চমৎকার দৃশ্য বলা যাবে না একে, এ হচ্ছে তিন কোটিওয়ালার নিপীড়ন ও অপমান, তিন টাকাওয়ালাকে। তিন কোটির মালিক অল্প কয়েকজন, তিন টাকার কাঙাল অসংখ্য, লাখ লাখ।

এই জয়, এই পরাজয়, এ কোনো নতুন ব্যাপার নয়। কিন্তু জয়ী এবং পরাজিতের মধ্যে ফারাকটা বাড়ছে, দিনে দিনে, বছরে বছরে। গ্রামে কাজ নেই, আশ্রয়ও নেই, নিরুপায় মানুষ উপায়ের খোঁজে শহরে আসে, এসে বস্তিতে ওঠে তারপর বস্তিতে এক দিন আগুন লাগে, সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়, নিঃস্ব হয়ে পড়ে। বস্তিবাসী গ্রামে পরাজিত হয়ে যে শহরে এসেছিল; শহরে হেরে গিয়ে সে কোথায় চলে যায়, কে জানে। যেখানে বস্তি ছিল সেখানে বিজয় উঠতে বিলম্ব ঘটে না, দর্পিত অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা আত্মসন্তুষ্ট বিপণি বিতান দাঁড়িয়ে যায়, জয়ীদের জয়ের তালিকা যেমন, তেমনি পরাজিতদের পরাজয়ের তালিকাও প্রসারিত হতে থাকে, পরস্পর বিরুদ্ধ ফলাফল তৈরি করে দিয়ে। ছোট ব্যবসায়ীদের বাজারটা পুড়ে যায়, যাতে বড় ব্যবসায়ীরা সেখানে আরও বড় বাজার খুলতে পারে।

এসব তো বাইরের দৃশ্য। জয়ী মানুষদের ঘরের ভেতরের ছবি দেখলে সন্দেহ থাকবে না যে, আরব্য রজনীর সেই দৈত্য তাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, হুকুম করার অপেক্ষামাত্র, অমনি যা চাইবে এনে দেবে। এরা ঈদে যায় কলকাতায়, অসুখ হলে ব্যাংককে, ছেলেমেয়েদের রাখে আমেরিকায়। নিজেরা কখনো দেশে থাকে, কখনো বিদেশে। দেশি জিনিস পারতপক্ষে ব্যবহার করে না, দেশি ভাষায় নিজেরা ক্ষমাঘেন্না করে কথা বললেও সন্তানদের কারবার সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এসব যখন চলে তখন মঙ্গা ঘটে রংপুরে। দেশের অর্থমন্ত্রী বলেন, মঙ্গা কী তিনি জানেন না। আগের অর্থমন্ত্রী যেমন বলেছিলেন, শেয়ার মার্কেট কী বস্তু তিনি বোঝেন না, যদিও তার চোখের সামনেই ফটকাবাজারে জুয়া খেলতে গিয়ে শত শত মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার নিজেদের সর্বস্ব খুইয়েছে এবং দেশি-বিদেশি ভুয়া কোম্পানি শেয়ারের মূল্যহীন কাগজ তাদের হাতে গছিয়ে দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। মঙ্গা কী, তা মন্ত্রী না বুঝলেও ভুক্তভোগী মাত্রই বোঝে। হাড়ে হাড়ে। কয়েকজন তরুণ গিয়েছিল মঙ্গাপীড়িত এলাকায়। তাদের একটি অভিজ্ঞতাই বলে দেবে মানুষ সেখানে কীভাবে টিকে আছে। অতিশয় বৃদ্ধ একজন এসেছিলেন সাহায্য নিতে। তার পরনের লুঙ্গিটি ছেঁড়া, কিন্তু তিনি চাইলেন একটি শাড়ি। কারণ কী জানতে চাইলে বললেন, তিনি তো তবু ফাটা লুঙ্গি পরে বাইরে আসতে পেরেছেন, তার স্ত্রীর পক্ষে ঘরের বাইরে আসার উপায় নেই। ওই সময়টা ছিল রোজার, ত্রাণকর্মীরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন সাহরিতে তিনি কী খেয়েছেন, জবাব পেয়েছেন যে, পান্তাভাত ও কাঁচা মরিচ জুটেছিল, ইফতারির সময় পানি ছাড়া অন্যকিছু পাবেন বলে ভরসা করেন না। তরুণ ত্রাণকর্মীদের কৌতূহল রয়েছে ঈদের দিন তিনি কোন ধরনের খাবার খাবেন বলে আশা করেন, ভদ্রলোক জানিয়েছেন ভাতের সঙ্গে ডিম ভাজা পেলে খুবই খুশি হবেন। গরিবের ঈদ নিয়ে কবিতা আমরা অনেক পড়েছি। কিন্তু সেই ঈদ যে এমন সাদামাটা এবং এই ঈদ যে একজনের নয়, বহুজনেরতার বিপরীতে তিন কোটিওয়ালাদের ঈদ যে কতটা দাপটের হতে পারে তার হদিস কবির পক্ষেও পাওয়া সহজ হবে না।

কে জয়ী আর কে-ইবা পরাজিত তা নিয়ে কি সন্দেহের কোনো অবকাশ আছে? জয়ীর সংখ্যা শতকরা পাঁচজনের বেশি হবে না, বাদবাকি সবাই বিভিন্ন মাত্রায় পরাভূত। জয়ীরা কারা? তাদের পরিচয় কী? পরিচয় একটাই, তারা ধনী। হ্যাঁ, পেশাগত পার্থক্য আছে, আদর্শগত দূরত্বও থাকতে পারে, কিন্তু তাদের জয় সেসব বিভিন্নতাকে অবলুপ্ত করে দিয়েছে। এরাই এ দেশের ব্যবসায়ী, আমলা, রাজনীতিক এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পেশাজীবী। এদের মধ্যে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি সবাই রয়েছে। যেন একই পরিবারের সদস্য, কলহ যা তা পারিবারিক বটে; ভাগাভাগি নিয়ে কাড়াকাড়ি মাত্র, নইলে তারা সমান সুবিধাতেই রয়েছে। সরকারি জোটের সদস্য জামায়াতের আমির নিঃসংকোচে বলে যাচ্ছেন যে, সূর্যসেন ছিলেন এ দেশের প্রথম সন্ত্রাসী, জামায়াত একাত্তরে মানুষ খুন করেছে, এখনো যে করছে না তা নয়, কিন্তু তা নিয়ে ক্ষমা চাওয়া দূরের কথা, দুঃখ প্রকাশও করতে হয়নি। জয়ীদের কাতারে তারা অত্যন্ত আরামে বসে আছে।

নব্বইয়ে একটি গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল, পতন ঘটেছিল এক স্বৈরশাসকের। পতনের রাতে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে চেষ্টা করছেন বলে খবর রটেছিল, হাজার মানুষ ছুটেছিল বিমানবন্দরের দিকে, তাকে আটকাতে। তিনি আটকও হয়েছিলেন, কিন্তু পরে শুধু ছাড়াই পাননি, ওই যে যারা জয়ী তাদের মধ্যে একজন প্রধান পুরুষ হিসেবে বিরাজ করছেন। তিনি বিবাহ এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, সম্প্রতি মেয়ের বয়সী ও আগে-বিবাহিত এক পাত্রীকে স্ত্রীর আসনে বসিয়েছেন, সে খবর নয় কেবল, তার নতুন স্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্যও আমাদের শুনতে হয়েছে। তার প্রথম স্ত্রী নির্বাচিত এমপি, দ্বিতীয় স্ত্রীও শোনা যাচ্ছিল মহিলা কোটায় এমপি হবেন বলে কথা ছিল। পরে আরও তেলেসমাতি কা-। দ্বিতীয় স্ত্রীকে তিনি ত্যাগ করেছেন এবং জেল খাটিয়েছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীও বসে নেই, অতবড় মানুষের স্ত্রী, তাই সাবেক হলেও রাজনীতিতে হট্টগোল করছেন। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন ড. মিলন, কাগজে খবর বের হয়েছে যে, যারা সেদিন মিলনকে গুলি করেছিল তাদের নিজ হাতে গোলাবারুদ সরবরাহ করেছিলেন স্বয়ং এরশাদের প্রথম স্ত্রী। কদিন আগে মিলনের মা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মিলন হত্যার বিচার দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, বিচার হবে বলে। এর কদিন পর রওশন এরশাদ তার দলের এমপিদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে যে খবর বের হয়েছিল সে ঘটনার পরিণতি যদি এমন হতো যে, রওশন এরশাদ একজন মন্ত্রী হয়েছেন, তাহলেও বিস্মিত হওয়ার কারণ থাকত না। কিছুই অসম্ভব নয়।

রূপকথায় কল্পজগতের কাহিনী থাকে, সেখানে নিয়মকানুন-কায়দাকানুন সবকিছুই অন্যরকমের, আমাদের দেশে ধনীরাও ওই জগতেরই বাসিন্দা, তাদের কাজ একেবারেই ভিন্ন ধরনের। বিদেশিরা আমাদের গ্যাস-তেল নিতে চায়। সরকার রাজি, বিরোধী দলও যে গররাজি তা নয়। টাটা কোম্পানি আসবে, তাদের গ্যাস দেওয়া হবে; সরকার উৎসাহী, বিরোধী দল যে অনাগ্রহী তাও মনে হয় না। বিদেশিরা বন্দর নিয়ে নেবে এমন আশঙ্কা, সে ব্যাপারে সরকারি এবং বিরোধী দল কারও মনোভাবেই প্রকৃত দেশপ্রেমিকের নয়। এ দেশে যারা ক্ষমতায় যাতায়াত করে তারা সবাই একই শ্রেণির মানুষ। সেটি হলো শাসকশ্রেণি, সেই শ্রেণিতে দেশপ্রেমের বড়ই অভাব; ছড়াছড়ি আত্মপ্রেমের। একাত্তরে কি তাহলে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি? সেই যুদ্ধে কি জয় হয়নি জনগণের? শতকরা পঁচানব্বইজনই তো ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, পাঁচজন হয়তো বিপক্ষে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কি তবে চলে গেল দেশের ধনিক শ্রেণির হাতে?

হ্যাঁ, সেটাই ঘটেছে বটে। ক্ষমতা চলে গেছে ধনীদের হাতে। একাত্তরে কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল, কে ছিল বিপক্ষে সেটা আজ আর কোনো বিবেচনার বিষয় নয়, বিবেচ্য হলো কার হাতে টাকা আছে, কার হাতে নেই। যার টাকা আছে গেন ক্ষমতাবান, টাকা কোন পথে এসেছে তা কেউ জানতে চায় না। কেননা জানাই আছে যে, সব টাকাই অর্জিত হয়েছে অন্যায় পথে। কিন্তু ব্যাপারটাকে ছিনতাই বলা বোধকরি অন্যায় হবে। ঘটনাটা খুবই স্বাভাবিকভাবে ঘটেছে। সাধারণ মানুষ যুদ্ধ করেছে, প্রাণ দিয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। ঘরের মেয়েরা নানাভাবে লাঞ্ছনা সহ্য করেছে। যুদ্ধ শেষে তারা চলে গেছে নিজ নিজ পুরাতন অবস্থানে, যে অবস্থান এরই মধ্যে আগের তুলনায় ভালো হবে কী আরও খারাপ হয়েছে। তারা কাজ পায়নি। অনেকে দুর্ভিক্ষে পড়েছে। আগে ছিল রাজাকারের আতঙ্ক, পরে দেখা দিয়েছে রক্ষীবাহিনীর ভয়। আর যারা বিত্তবান তাদের সুবিধা হয়েছে, তারা একবার ধন বৃদ্ধির সুবিধা পেয়েছিল পাকিস্তান আসায়, আরেকবার পেল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়। বিত্তবানদের যে অংশ যুক্ত ছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে তারা তো উৎফুল্ল হলোই, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল তাদেরও কোনো অসুবিধা হলো না। রাজাকারদের ভেতর চিকন আলীরাই শুধু ধরা পড়েছে, স্ফীতোদররা সহজেই পুনর্বাসিত হয়ে গেছে। বলাবাহুল্য, আদর্শের জোরে নয়, টাকার জোরে। যুদ্ধে জনগণের জয় হয়েছে. এটা একাত্তরের শেষে এবং বাহাত্তরের শুরুতে সত্য ছিল। মনে হয়েছিল বিপ্লব ঘটে গেছে। আমরা নতুন রাষ্ট্র তো বটেই, নতুন এক সমাজও পাব। জনগণ বলতে সেই মুহূর্তে ধনী-দরিদ্র সবাইকে বোঝাত। কেননা সবাই একসঙ্গে লড়ছিল একটি চিহ্নিত শত্রুর বিরুদ্ধে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের ঐক্য তো টেকেনি।

ধনীরা চলে গেছে ধনীদের জায়গায়, বাদবাকিরা পরাজিত মানুষের মতো ফিরে গেছে আগে, যেখানে ছিল তার চেয়েও খারাপ জায়গায়। গত ৩৪ বছরের ইতিহাস এ দেশে ধনীদের আরও ধনী হওয়ার ইতিহাস বটে। ধনী হয়েছে উৎপাদন করে নয়, মূলত লুণ্ঠন করে; কাজটি হানাদাররা শুরু করেছিল, স্থানীয়রা তাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। একাত্তরে জাতি বিভক্ত হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারে, তারপর বিভক্ত হয়েছে ধনী ও দরিদ্রে। ধনীরা জয়ী হয়েছে, গরিবদের হারিয়ে দিয়ে। যেন ধনীকে আরও ধনী করার জন্যই সবকিছু ঘটেছে।

এমন তো কথা ছিল না। লড়াইটা তো শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার ছিল না, ছিল সার্বিক মুক্তির, যে মুক্তির মূল ভিত্তিটাই হওয়ার কথা ছিল অর্থনৈতিকশুধু উন্নয়নের নয়, বৈষম্যহীনতারও। জনগণের আশা কেন তাহলে ভেঙে গেল খান খান হয়ে। গেল এজন্য যে, সমাজ মোটেই বদলাল না। রয়ে গেল আগের মতোই। রাষ্ট্র বদলাল বটে, কিন্তু সে শুধু বহিরঙ্গ, ভেতরে সে রয়ে গেল আগের মতোই। সেই একই আমলাতন্ত্র, আইনকানুন, অফিস-আদালত শিক্ষাব্যবস্থা, প্রচারমাধ্যম, ধমক-ধামক, ঠাটবাট। শাসক বদলাল কিন্তু শাসন বদলাল না।

সাতচল্লিশে ব্রিটিশ শাসকরা চলে গিয়েছিল পাকিস্তানিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে, একাত্তরের পাকিস্তানি শাসকরাও সেই একই কাজ করতে বাধ্য হলো, ক্ষমতা দিয়ে গেল বাঙালি শাসকদের হাতে। রাষ্ট্র হুবহু এক রইল না, কিন্তু একই ধরনের রয়ে গেল। দুবারই যারা রাষ্ট্রক্ষমতা পেয়েছে তাদের প্রধান যোগ্যতা ছিল তাদের বিত্ত। বিত্তবানরাই পাকিস্তান রাষ্ট্রের ক্ষমতায় ছিল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায়ও তারাই রয়েছে। জয় তাদেরই। আর তারা যদি জয়ী হয় তবে সাধারণ মানুষ তো পরাজিত হবেই। তারা ঠিকই পরাজিত হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্য দিয়ে; বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা সশস্ত্র যুদ্ধের সাহায্যে। এই ব্যবধানটা সামান্য নয়। স্বায়ত্তশাসন নয়, স্বাধীনতাও নয় শুধু; চাই মুক্তি। খুব বড় একটা আশা তৈরি মুক্তির কল্পনাকে ঘিরে হয়েছিল। সফল হলো না বিত্তবানদের কারণে। তারা রাষ্ট্রক্ষমতা পেয়ে সেই কাজই করতে থাকলপাকিস্তানি শাসকরা যা করছে, নিজেরা আরও ধনী হতে থাকলে জনগণকে বঞ্চিত করে। এদের চরিত্র দেশপ্রেমিকের নয়, লুণ্ঠনকারীর বটে।

লেখকঃ ইমেরিটাস অধ্যাপক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়