প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে জামানত ফেরত চাইলেন নিশাদ

আসন্ন ৪ জানুয়ারি গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এবং জামানতের অর্থ ফেরত চাইলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ। গতকাল রবিবার দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

নিশাদ বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট হলে আমি বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হব। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো উপনির্বাচন স্থগিত হয়নি কোনো দিন। কিন্তু গাইবান্ধা-৫ সাঘাটা-ফুলছড়ি আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়েছে। যেহেতু সুষ্ঠু ভোটের সম্ভাবনা নাই, তাই জামানত বাজেয়াপ্ত হলে আমার সম্মানহানির আশঙ্কা থাকে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১২ অক্টোবর প্রার্থী হিসেবে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। আমার নির্বাচনী প্রতীক আপেল মার্কার প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন আমাকে শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য উপনির্বাচনের আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনের যে প্রতিশ্রুতি ছিল তাতে আশ্বস্ত হয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রহসনের নির্বাচনে কমিশনের আশ^াস যে শুধুই কথার কথা বা লোক দেখানো হুঙ্কার ছিল, তার প্রমাণ ১২ অক্টোবরের উপনির্বাচন। আসন্ন ৪ জানুয়ারি উপনির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করলে আমার এলাকার অন্য কোনো নিরীহ ব্যক্তিদের অপরাধী বানিয়ে তাদের সাজা দেওয়া হবে; এই মুহূর্তে এমন আশঙ্কায় আমি আতঙ্কিত। আমি ভোটে অংশ নিলে আবারও নতুন করে কাউকে অবৈধ পন্থায় অপরাধী সাজিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হবে, আমি তা চাই না।’

নিশাদ বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করেছিলাম নির্বাচন কমিশন আমাদের মতামত জানতে চাইবেন, এমন সাজানো ভোটে আমরা প্রার্থী হব কি না? নির্বাচন কমিশন চাইলেই পুনঃ তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে অন্যান্য প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে আসার সুযোগ করে দিতে পারত অথবা দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জনগণের আস্থা অর্জনে নতুন প্রার্থীদের সুযোগ করে দিতে পারত। এর কোনোটাই আমরা দেখতে পাইনি। তাই লোক দেখানো এই নির্বাচন থেকে আপনাদের সবার (সাঘাটা- ফুলছড়িবাসীর) পরামর্শে আমি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’