ভোলায় তেলবোঝাই জাহাজ উদ্ধার হয়নি

ভাসমান তেলে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

ভোলার মেঘনা নদীর তুলাতুলি এলাকায় অকটেল ও ডিজেলবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনায় মালিকপক্ষ থেকে নিজস্ব উদ্যোগে ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাহাজের মাস্টার মো. মাসুদুর রহমান বেল্লাল। গতকাল সোমবার সকালে তিনি জানান, ইতিমধ্যে সাগর বধূ-৩ নামে একটি জাহাজ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছে ও বিকেলের দিকে আরেকটি জাহাজ এসে পৌঁছবে এবং দুটি জাহাজ মিলে ওই ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

এর আগে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার অপারেশন লেফটেন্যান্ট এম হাসান মেহেদী জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে তেল উদ্ধারকাজ জোয়ারের কারণে বন্ধ করেছে কোস্টগার্ড।

এদিকে তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনা তদন্তে পদ্মা অয়েল কোম্পানির পক্ষ থেকে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কমিটির সদস্যরা তদন্তকাজ শুরু করেছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন আসিফ মালিক উপমহাব্যবস্থাপক (পরিচালন) আহ্বায়ক, মো. আনোয়ার হোসেন সহকারী মহাব্যবস্থাপবক (পরিচালন) সদস্য সচিব, ইমরানুল হাসান চৌধুরী (উপব্যবস্থাপক, চাঁদপুর) সদস্য, শফিউল ইসলাম বিশ^াস (বিপণন কমকর্তা, বরিশাল)। কমিটিকে চার কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশবিদরা বলছেন, জাহাজডুবির কারণে প্রচুর পরিমাণ তেল নদীতে ভাসছে। এতে করে নদীতে মাছের মৃত্যুসহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। নদীর পানি থেকে তেলের গন্ধ বের হচ্ছে। এ ছাড়াও শীতে যেসব অতিথি পাখি এসেছে সেগুলো মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত তেল অপসারণ করার দাবি জানান।

তবে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নদী থেকে তেল অপসারণ করার জন্য একটি অয়েল পুলিয়েশন যন্ত্র নিয়ে কোস্টগার্ডের একটি দল কাজ করছে।

গত শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯০০ টন অকটেন ও ডিজেল লোড করে চাঁদপুরের ৫ নম্বর ঘাটের পদ্মা ডিপুর উদ্দেশে রওনা হয় সাগর নন্দিনী-২ নামে তেলবাহী জাহাজটি। রবিবার ভোর ৪টার দিকে ভোলার সদর উপজেলার তুলাতুলি মেঘনা নদীতে এলে পেছন দিক থেকে আসা আরেকটি জাহাজ ধাক্কা দেয়। এতে পেছনের ইঞ্জিন রুমের কাছে ছিদ্র হয়ে পানি প্রবেশ করে জাহাজটি ডুবে যায়।