গত বছরের তুলনায় ২০২২ সালে কর্মক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট হতাহত হয়েছে ১ হাজার ১৯৫ শ্রমিক। যার মধ্যে নিহত হয়েছে ৯৬৭ জন এবং আহত ২২৮ জন। এদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫২ জন এবং আহত হয়েছেন ৯৪ জন।
আর অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৮১৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১৩৪ জন।
এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক হতাহত হয়েছেন পরিবহন খাতে। এ খাতে মোট হতাহত হয়েছে ৪৭৬ জন। যার মধ্যে ৪২৫ জন নিহত আর ৫১ জন আহত। যা মোট হতাহতের ৪০ শতাংশ।
বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেইফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ওশি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সারগ-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ২০২২ প্রকাশ’ অনুষ্ঠানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে নিহত ৯৬৭ জন মধ্যে নারী শ্রমিক ছিলেন ২৪ জন আর পুরুষ শ্রমিক ছিলেন ৯৪৩ জন। এর আগের বছর ২০২১ সালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১০৮৯ জন শ্রমিক হতাহতের শিকার হয়েছিলেন। গত এক দশকে (২০১৩-২০২২) মোট ১৫ হাজার ২৫৯ জন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে হতাহতের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ৯ হাজার ৫৫৮ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৭০১ জন আহত হন।
ওশি ফাউন্ডেশনের জরিপে দেখা যায়, ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক হতাহত হয়েছেন পরিবহন খাতে। এই খাতে মোট হতাহত হয়েছে ৪৭৬ জন। যার মধ্যে ৪২৫ জন নিহত আর ৫১ জন আহত হয়েছেন। যা মোট হতাহতের ৪০ শতাংশ। হতাহতের দিক দিয়ে পরিবহন খাতের পরেই রয়েছে সেবামূলক খাত। এই খাতে মোট ২৭০ জন শ্রমিক হতাহতের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ২১১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন আর ৫৯ জন আহত হয়েছেন যা মোট হতাহতের ২৩ শতাংশ।
এ সেবামূলক খাতের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে ওয়ার্কশপ, গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, হোটেল/ রেস্টুরেন্ট, সরকারি সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মি প্রভৃতি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেবাখাতের পর রয়েছে কৃষিখাত। এই খাতে মোট ১৩৯ জন শ্রমিক হতাহত হয়েছেন। যার মধ্যে ১২৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন আর ১৫ জন আহত হয়েছেন যা মোট হতাহতের ১২ শতাংশ। কৃষিখাতের মধ্যে রয়েছে ফসল উৎপাদন কর্মী, জেলে, চা- শ্রমিক, গরু ও মুরগির খামার ইত্যাদি।
এরপর রয়েছে নির্মাণ খাত। এবছর নির্মাণ খাতে মোট ১৩৪ জন শ্রমিক বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৫ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। যা মোট হতাহতের ১১ শতাংশ।
আর ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে মোট হতাহতের সংখ্যা ১০০ জন। যার মধ্যে ৬৭ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া এবছর তৈরি পোশাক শিল্প খাতে মোট ৫৪ জন হতাহতের শিকার হন। এরমধ্যে ২৮ জন মৃত্যুবরণ করেন এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। আর জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে হতাহতের সংখ্যা মোট ২২ জন, যার মধ্যে নিহত ৭ জন এবং আহত ১৫ জন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থার পরিচালক মো. আলম হোসেন।
তিনি বলেন, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ ডিসেম্বর মোট ১১৯৫ শ্রমজীবী মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এ বছর সবচেয়ে বেশি শ্রমিক হতাহত হয়েছেন আগস্ট মাসে। এ মাসে মোট হতাহতের সংখ্যা ১৪২ জন যার মধ্যে ১১৭ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া জানুয়ারি মাসে ৮১ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৭৯ জন, মার্চ মাসে ৭৫ জন, এপ্রিল মাসে ৯৯ জন, মে মাসে ৯৬ জন, জুন মাসে ১০২ জন, জুলাই মাসে ১২০ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩৯ জন, অক্টোবর মাসে ১১৬ জন, নভেম্বর মাসে ৭৮ জন এবং ডিসেম্বর মাসে (১-২৯ তারিখ পর্যন্ত) মোট ৬৮ জন শ্রমিক হতাহত হয়েছেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন ওশি ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়ক এমএম কবীর মামুন, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ইশরাত জাহান, এমআইএস অফিসার মো. সোহেল শেখ, মনিটরিং অফিসার মো. নূর আলম, ডক্যুমেন্টেশন অ্যাসিসটেন্ট মো. সুমন হাওলাদার প্রমুখ।