আওয়ামী লীগকে ‘ভোট ডাকাতের’ সরকার আখ্যা দিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা বলেছেন, বর্তমান সরকার দিনের ভোট রাতে করে ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে তারা।
গতকাল শুক্রবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে বাম জোটের নেতারা এসব কথা বলেন।
বাম জোটের সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আমরা ভোটের আগে নানা ধরনের কারসাজি দেখেছি। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে যে ধরনের কারসাজি হয়েছে, অতীতের কোনো নির্বাচনে আগে এমনটা হয়নি। জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে ভোট ডাকাতি করে গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকা সরকার একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার আজ নির্বাসিত। দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের প্রতি জনগণের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘বর্তমান সরকার চূড়ান্তভাবে জনবিচ্ছিন্ন। তাই তারা রাস্তায় রাস্তায় ক্যাডার বাহিনী বসিয়েছে মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করার জন্য। তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘২০১৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, তা বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম। রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ভোট জালিয়াতির এক চরম কলঙ্কজনক নজির স্থাপন করে পুনরায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়েছে। ওই সময় কোনো রাজনৈতিক দল এর প্রতিবাদে মাঠে নামতে পারেনি। কিন্তু আমরা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করেছিলাম।’
বরিশালে বাম দলের বিক্ষোভ : আওয়ামী লীগের ‘নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির’ চার বছর পূর্তিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সামাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন ও বাম গণতান্ত্রিক জোট। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের সদর রোডে বিক্ষোভ সমাবেশ করে গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটি। পরে তারা নগরে একটি কালো পতাকা মিছিল বের করে।
গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটির আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সাকিবুল ইসলাম সাফিনের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সদস্য সচিব আরিফুর রহমান মিরাজ, জেলা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাতে অভূতপূর্ব ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিশী রাতে ভোট ডাকাতির নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার।