জাবি

চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে আমরণ অনশন

চাকরি স্থায়ী করার এক দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত দৈনিক মজুরি ভিত্তিক অস্থায়ী কর্মচারীরা।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন শুরু করে সন্ধ্যা সাতটা অনশন চালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চাকরি স্থায়ী করার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই কর্মচারীরা।

এর আগে, দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ছয়টি আবাসিক হল পরিদর্শনে গিয়ে অনশনরতদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম। এ সময় তিনি আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন আবাসিক হলগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োজিত অস্থায়ী কর্মচারীদের চাকরি দেওয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সুপারিশ করেছেন ইউজিসি সদস্য দিল আফরোজা বেগম।

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম জানিয়েছেন, অনশনরতদের বিষয়ে সুপারিশ মোতাবেক কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনরত চতুর্থ শ্রেণির এই অস্থায়ী কর্মচারীরা নতুন হলগুলোতে আবেদন করলে আমরা সর্বোচ্চ বিবেচনা করবো।’

রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির সাতজন ও চতুর্থ শ্রেণির ১৪৯ জন কর্মচারী ‘দৈনিক মজুরি’ ভিত্তিতে কর্মরত আছেন। ইউজিসির অনুমোদন না থাকায় তাদের নিয়োগ স্থায়ী করা সম্ভব হচ্ছে না।

চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে অনশনকারীদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহানারা ইমাম হলের পিয়ন নাসরিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও ইউজিসির দোহাই দিয়ে আমাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। এখন আমাদের পক্ষে আর ধৈর্য ধরা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অনশনে বসেছি।’

শেখ হাসিনা হলের মালি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেবা দিয়ে মাসে মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতন পাই। এই টাকা দিয়ে সংসার চলে না।’