খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির মেয়াদ এক থেকে দুই বছর করাসহ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জন এবং দুজন নির্বাচন কমিশনারসহ ১৬ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। খুলনার সিনিয়র সহকারী জজ (সদর কোর্ট) আদালতে গত ১ জানুয়ারি মামলাটি করা হয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৪ জন আইনজীবী মামলাটির বাদী। গতকাল মঙ্গলবার মামলাটির শুনানি শেষে আদালত পরিষদের ১৪ জন আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ নূরুল হাসান রুবা।
খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন গত ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম ও তারিক মাহমুদ তারার নেতৃত্বাধীন পরিষদকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
মামলার বাদীরা হলেন অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার খোকন, অ্যাডভোকেট মো. আসলাম হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. মহসিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এ কে এম শহিদুল আলম শহিদ, অ্যাডভোকেট শেখ মো. মঈন উদ্দীন মারুফ, অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হক গাজী (এসকেন্দার), অ্যাডভোকেট নুরুন নাহার নাজমুন নেছা জেবা, অ্যাডভোকেট মো. আশফাক আহমেদ পারভেজ, অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন মিলন, অ্যাডভোকেট তাহেরা নাজমা মিতু, অ্যাডভোকেট আ ফ ম মুস্তাকুজ্জামান (মুক্তা), অ্যাডভোকেট মো. মুজাহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জিএম মশিউর রহমান ও অ্যাডভোকেট শাকিরা ফেরদৌস (রিমি)।
এজাহারে গঠনতন্ত্রের ৫৭ ধারা লঙ্ঘন করে প্যানা ও বিলবোর্ডে প্রচারণা এবং কারসাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে নির্বাচন বাতিলের আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে ১ থেকে ১৪ নম্বর বিবাদী যাতে ২০২৩ সালের জন্য খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবে কোনো কাজ করতে না পারেন সে ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানো হয়।
এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল হাসান রুবা বলেন, ‘মামলায় খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সর্বশেষ অনুষ্ঠিত গত ২৭ নভেম্বরের নির্বাচন বাতিল এবং সমিতির নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ এক বছরের স্থলে দুই বছর করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত ১ থেকে ১৪ নম্বর বিবাদীকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছেন।’
গত বছর ২৩ অক্টোবর ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তার একটি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ কর্র্তৃক মনোনীত ও সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ কর্র্তৃক সমর্থিত। অন্যটি বিএনপি সমর্থিত পরিষদ নামে পরিচিত।