পেলের শেষকৃত্যে না গিয়ে সমালোচনার মুখে যারা

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ফুটবলের কিংবদন্তী পেলে। সান্তোসের মাঠে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অনেকেই পেলেকে শেষ বিদায় জানাতে হাজির হয়েছিলেন। তবে আসেননি ব্রাজিলের অনেক তারকারা। ব্রাজিলের নামকরা অনেকই ‘ফুটবল জাদুকর’-এর শেষকৃত্যে যোগ দেননি। এটি নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

সোমবারই সান্তোসের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে নিয়ে আসা হয় পেলের কফিন। সেখান থেকেই মঙ্গলবার শুরু হয় তাঁর শেষযাত্রা। সান্তোস শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে তার নিথর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় নেকরোপোল একিউমেনিকা কবরখানায়। সেখানেই নবম তলায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন তিনি। শেষযাত্রায় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা পেলেও ব্রাজিল দলে তাঁর উত্তরসূরিদের দেখা যায়নি সেখানে।

সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে এবারের কাতার বিশ্বকাপ খেলা ব্রাজিলের কোনো খেলোয়াড়ই পেলের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন না। অনুপস্থিত ছিলেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যরাও। কাফু, রোনালদো নাজারিওদের মতো তারকারা কেন ছিলেন না, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্রাজিলীয় গণমাধ্যম। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কেবল মাউরো সিলভা।

ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার নেতো ব্যাপারটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, ‘পেলে একজন কিংবদন্তি। তার মর্যাদা অনেকটা নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা মহাত্মা গান্ধীর সমপর্যায়ের। ব্রাজিলিয়ানরা প্রমাণ করল, তারা তাদের আইকনকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে জানে না। বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার, যাঁরা এখনো জীবিত, তাঁরা যদি পেলের শেষকৃত্যে না যোগ দেন, তখন আর কী বলা যায়!’

পেলের ক্লাব সান্তোসের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব করিন্থিয়ানসে ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন নেতো। তিনি সোমবার থেকেই পেলের শেষকৃত্যের সব আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত ছিলেন। পেলের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা।

নেইমার, রোনালদো নাজারিও, রিভালদো, কাফুদের পাশাপাশি কাকার অনুপস্থিতি সবার চোখে লেগেছে। ব্রাজিলের কলামিস্ট ওয়াল্টার কাসাগ্রান্দে জুনিয়র পেলের শেষকৃত্যে খোঁজ করেছেন কাকাকে, ‘কাকা কোথায়? তাঁর কি এখানে আসা উচিত ছিল না?’

পেলের সতীর্থ যারা বেঁচে আছেন, তাদের বেশির ভাগই অসুস্থ। তাই ব্রাজিলের বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়েরা তার শেষকৃত্যে যোগ দেবেন—এমনটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু তারা কেউই বলতে গেলে আসেননি।