স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের দেহ বিএসএমএমইউতে

দেশবরেণ্য স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের (৭৯) মরণোত্তর দেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অ্যানাটমি বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে তার দেহ গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে স্থপতি মোবাশে^র হোসেনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। মরণোত্তর দেহদানে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে প্রয়াতের একমাত্র ছেলে সাইদ হোসেন তমাল মরদেহকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সবাইকে এক মিনিট করতালি করার অনুরোধ জানান। পরে উপস্থিত সবাই এক মিনিট করতালি দিয়ে প্রয়াত স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনকে শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের মরদেহটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি বিভাগে সংরক্ষণ, শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের অনুমতিপত্র বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়।

বরেণ্য স্থপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন গত ১ জানুয়ারি রবিবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়াতের ইচ্ছে অনুযায়ী তার মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা হয়।

উপাচার্য এ ধরনের মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা এবং মরণোত্তর দেহদানকারী নিকটাত্মীয়সহ পরিবারের সবাইকে এ ত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি বিভাগের দেহ সংরক্ষণ, পরীক্ষণ এবং গবেষণাগার সর্বাধুনিক। এখানে যাদের দেহদান করা হয়েছে, তাদের স্বজনদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা জানানো হবে। মরণোত্তর দেহদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে এটিকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রয়াতের ছেলে সাঈদ হোসেন তমাল বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা সর্বস্ব ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে গেছেন। বহু মুক্তিযোদ্ধা পরবর্তী সময়ে সাধারণ হিউম্যান হয়ে গেছেন। তিনি সাধারণ হিউম্যান হতে পারেননি। তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদানের জন্য তিনি তার দেহদান করে গেছেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মরদেহটি চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা উপযোগী করে তোলার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অ্যানাটমি বিভাগের নবনির্মিত মরচুয়ারি, প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব, স্কিল ল্যাব অ্যান্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সে শেষ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে এক মাস সময় লাগবে।