বাংলা শিশুসাহিত্যে রাহাত খান এক কালজয়ী নাম। তার ‘দিলুর গল্প’ বইটি লাভ করেছে চিরায়ত সাহিত্যের মর্যাদা। দিলু এমন এক ছেলে যাকে পছন্দ না করে পারা যায় না। চৌধুরীপাড়ায় দিলুরা নতুন এসেছে, মৃত্যুঞ্জয় স্কুলে ভর্তি হয়েছে, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। পাড়ার অন্য ছেলেরা তাকে দেখলেও ঠিক করল তার সঙ্গে আগ বাড়িয়ে কথা বলবে না। তাই তো দিলুকে এগিয়ে আসতে দেখলে কেউ টু শব্দটিও করল না। কী আর করার! দিলু নিজেই এগিয়ে এলো আকবরদের বাড়ির বাগানের আড্ডায়। গজা, সুনির্মলদের দিকে এগিয়ে এসে বিষণœ গলায় বলল, ‘আমার পোষা বাঘটা হঠাৎ বেরিয়ে গেছে, তোমরা কেউ আমার বাঘটাকে দেখেছো?’ এ কথার পরে তো আর চুপ করে থাকা চলে না। আকবর অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি বাঘ পোষো, মানে টাইগার?’ তখন দিলু জিভ কেটে জানায়, সরি, তার ভুল হয়ে গেছে। আসলে বাঘ হারায়নি, তার পোষা ছাগলটা হারিয়ে গেছে। কিন্তু ছাগলের বদলে বাঘের কথা না বললে কি তারা (সুনির্মল, গজা, প্রদীপসহ চৌধুরীপাড়ার ছেলেরা) পাত্তা দিত? বন্ধুত্ব করার এমন অভিনব বুদ্ধির পরিচয় পেয়ে দিলুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতে চৌধুরীপাড়ার ছেলেদের আর আপত্তি থাকে না। সেই থেকে দিলু হয়ে যায় চৌধুরীপাড়ার কিশোর দলের অন্যতম সদস্য। এই কিশোর দলের প্রত্যেকেই নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যে অতুলনীয়। এই কিশোর দলের প্রধান সাজাহান ভাই সব বিষয়ে অসাধারণ। কথা বলেন বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে, রয়েছে তার নিজস্ব শব্দমালা। ‘ইলিম্পু ডিলিম্পু য়েস্কট টস্কট’ হলো কাউকে ইডিয়েট বলার সাজাহান ভাইয়ের নিজস্ব কায়দা। বকাঝকা করার ইচ্ছা হলে বলেন, ‘তুই একটা কাগজের খালি ঠোঙা, একটা থেঁতলানো কলার খোসা, পা পা ঝা’ ইত্যাদি। ‘পা পা ঝা’ হলো পাঁজির পা ঝাড়ার সংক্ষিপ্ত রূপ। ব্রাঞ্চ মানে কা- আর মিল মানে কারখানা। তিনি ব্রাঞ্চ আর মিল একসঙ্গে করে কা-কারখানাকে বলেন, ব্রাঞ্চমিল। চৌধুরীপাড়ার আরেক ছেলে প্রদীপ জয়নুল আবেদীন, শেকসপিয়ার, ফজল মাহমুদ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মহাত্মা গান্ধী প্রমুখের সঙ্গে ক্রিকেট খেলে। আর কত বলব! দিলুর গল্প বইটি যেন একটি খনি। কী নেই এই খনিতেহাসি, দুষ্টুমি, রোমাঞ্চকর অভিযান, বন্ধুত্ব! দেরি না করে পড়ে ফেলো এই মজার বইখানা।
সুলতানা রাজিয়া