আউটের পর নটআউট

বিপিএল সত্যিকার অর্থেই ইচ্ছের টুর্নামেন্ট হয়ে উঠেছে। এখানে যে যা ইচ্ছে করতে পারেন। তার প্রমাণ গতকাল দ্বিতীয় ম্যাচের আগে। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নাম অধিনায়কের জায়গায় থাকলেও টস করতে আসেন মুশফিকুর রহিম। টিম লিস্টে সইও তার। আবার ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানালেন ম্যাচপ্রতি অধিনায়ক বদল হবে। এমন ঘটনা বিশ্বের কোনো ক্রীড়া দলে আছে বলে মনে হয় না। অবশ্য এসবের আগেই প্রথম ম্যাচে ঘটেছে আরেক ঘটনা। ঢাকা ডমিনেটরসের সৌম্য সরকার অ্যাডিশনাল ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমের (এডিআরএস) অধীনে আউট ঘোষিত হয়েও নটআউট হন। খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ঢাকার ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে নাসুম আহমেদের বলে এলবিডব্লিউর আবেদন ওঠে। আম্পায়ার গাজী সোহেল সরাসরি আউট দেন। সিদ্ধান্ত মনঃপুত না হওয়ায় সৌম্য এডিআরএসের সাহায্য নেন। রিপ্লে দেখে টিভি আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। কিন্তু সৌম্য ক্রিজ ছাড়েননি। বাধ্য হয়ে আবারও টিভি আম্পায়ারের সাহায্য নেন ফিল্ড আম্পায়াররা। এবার সিদ্ধান্ত বদলে হয় নটআউট। ক্রিকেটারের চাওয়ার চাপে সিদ্ধান্ত বদলের ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম। এবার চাপে পড়েন আম্পায়ার গাজী সোহেল। খুলনার তামিম ইকবাল ও অধিনায়ক ইয়াসির আলিসহ খেলোয়াড়রা আম্পায়ারকে চেপে ধরে এর ব্যাখ্যা চান। অবশ্য সিদ্ধান্ত বদল হয়নি।

খুলনার হয়ে খেলতে আসা নেদারল্যান্ডস ক্রিকেটার পল ফন মিকেরেন এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত। প্রথমবার এমন কিছুর অভিজ্ঞতা নিয়ে এই ক্রিকেটার বললেন, ‘ব্যক্তিগত ভাবে আমি বলব, হকআই বা সঠিক প্রযুক্তি থাকলেই কেবল রিভিউ সিস্টেমটা রাখা উচিত। না হলে এমন সন্দেহ তৈরি হবে। গত ম্যাচে (উদ্বোধনী দিন) একটি ক্যাচের রিভিউতে স্নিকো মিটার না দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। ইংল্যান্ডে ঘরোয়া ক্রিকেটে আমি ডিআরএস দেখিনি। সঠিক প্রযুক্তি ছাড়া এসবের কোনো বিকল্প হয় না।’