রাজধানীর মিরপুরে একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম মোছাম্মৎ অন্তরা (২৩)। গতকাল শনিবার বিকেলে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের এইচ এম ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেলের ৭০৪ নম্বর কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার কথিত প্রেমিক রিয়াজ মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে রাজধানীর মুগদার গোলাপবাগ এলাকার বাসা থেকে অপরাজিতা দাস (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, আবাসিক হোটেল থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়া অন্তরার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। রাজধানীর মহাখালী এলাকায় থাকতেন। একসময় গার্মেন্টসে কাজ করতেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রিয়াজের সঙ্গে বিরোধ থেকে ওই তরুণী ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। তরুণীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
এইচ এম ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত শুক্রবার সকালে অন্তরার সঙ্গে দুই যুবক হোটেলের রুম ভাড়া নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে রিয়াজ অন্তরার স্বামী এবং মো. মেহেদী নামে আরেকজন ভাই পরিচয় দেন। হোটেলের কক্ষে অন্তরাকে রেখে গাড়ির ট্রিপ দিয়ে ফিরে আসবেন জানিয়ে ওই দুই ব্যক্তি বের হয়ে যান। এর মধ্যে শুক্রবার দুপুরে রিয়াজ বিশ্রাম নিতে হোটেলে এসে আবার বেরিয়ে যান। রাতে দুজনের কেউই হোটেলে ছিলেন না।
অন্তরা গতকাল সকালে হোটেলের কাউন্টারে ফোন চার্জ দিতে এসেছিলেন জানিয়ে ব্যবস্থাপক বলেন, ‘বেলা সোয়া ১১টার দিকে হোটেল বয় পরিষ্কার করার জন্য তার কক্ষে গেলে দরজায় টোকা দিয়ে কোনো সাড়া পাননি। পরে আমরা কয়েকজন গিয়ে দেখি দরজায় ভেতর থেকে লক নেই। আলতো চাপ দিতেই দরজা খুলে যায়। গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।’
মুগদায় স্কুলছাত্রীর লাশ : মুগদার গোলাপবাগের ঋষিপাড়ায় নিজেদের চারতলা বাড়ির দোতলা থেকে উদ্ধার করা হয় স্কুলছাত্রী অপরাজিতা দাসের মরদেহ। তার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে মুগদা থানার এসআই নগেন্দ্র কুমার দাস জানান, দুপুরে পরিবারের সবার অগোচরে নিজের শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় অপরাজিতা। বাসার লোকজন পরে টের পেয়ে দ্রুত তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে, সে বিষয়ে স্বজনরা কিছু জানাতে পারেনি।
বাবা অজয় কুমার দাস জানান, অপরাজিতা স্থানীয় সিটি করপোরেশন আদর্শ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ত। দুই ভাই-বোনের মধ্যে অপরাজিতা ছিল বড়। সকালে তিনি অফিসে গিয়েছিলেন। এ সময় বাসায় ছিলেন অপরাজিতা ও তার মা বৃত্তি রানী দাস। মা অপরাজিতাকে রুমে রেখে গোসল করতে যান। গোসল শেষে রুমে ঢুকে দেখেন অপরাজিতা ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় মুগদা হাসপাতালে নিয়ে যান।