রাত সোয়া ৯টা। মিরপুর ১৪ নম্বর সরকারি স্টাফ কোয়াটার্সের দেয়ালঘেরা খেলার মাঠের মূল ফটকের সামনে রিকশার ওপর বসে চিতই পিঠা খাচ্ছিলেন ইমাম হোসেন। কাছে গিয়ে বললাম, এমনি এমনি খাচ্ছেন। উনি বুঝলেন; বললেন, ভর্তা দিয়া খাইতে ভালা লাগে না। খিদা লাগছে, খাইতাছি। কথা বলতে চাইলাম, রাজি হলেন। বললেন, তয় বেশি কতা কইতাম পারমু না।
৬০-এর কাছাকাছি বয়স রিকশাচালক ইমাম হোসেনের। ১১০ টাকা রোজের রিকশা চালান। থাকেন একাই, গ্যারেজে ঘুমান। পরিবার থাকে দেশে। নিজের ঠিকানা বললেন- উত্তর কাফরুলের শিমুলতলা কালভার্টের কাছে বিল্লালের গ্যারেজ। ফোন নম্বর আছে? জানতে চাইলে বললেন- হেইতা দিয়া কী করুম।
ইমাম হোসেনের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের সোনাকাইন্না গ্রামে। সেখানেই থাকে তার পরিবার। তিন মেয়ে এক ছেলে তার। বড় মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, তবে পাস করতে পারেনি। আবার দেবে বলে জানালেন ইমাম। বাকিরা 'আছে কুনুমতে'- জানালেন ইমাম হোসেন।
এবার ক'টা প্রশ্ন করি? করেন, তয় বেশি না। গলায় তাচ্ছিল্য এনে বললেন এই প্রৌঢ় রিকশাওয়ালা।
আপনি কী করেন?
এই তো রিকশাই চালাই। আর কিতা করাম। খোদায় কপালে রিকশা চালানো রাখছে। হেইডাই করি।
আজকের দিনটি কেমন গেল?
আজকে আমার ৩০০ টাকার মতো ইনকাম হইছে। মনে করেন আসরের ওয়াক্তে বাইর হইছি। আবার থুইয়া দিছি। পরে অহন আবার বাইর হইছি। আমি জামের মইধ্যে রিকশা চালাইতাম পারি না। রাই্তে একটু ফাঁকা হইলে আমি চালাই।
আপনাকে সুযোগ দেওয়া হলে কোন স্বপ্নটি পূরণ করবেন?
আমি আর অহন কি হইয়াম??? আমার আবার কিয়ের স্বপ্ন। আমার আর অহন কুনু স্বপ্ন নাই। আমার মরণের সময় হইছে। আমি কুনুরকম খাইয়া পাইরা পটোলাপাইন লাইয়া বাঁচতে পারলেই খুশি। নতুন কইরা আমি তো আর কিছু করতে পারুম না। বাঁচমুই আর কয়দিন।
কত টাকা হলে আপনি ভালোভাবে চলতে পারবেন?
এইডা আমি কী হিসাব করাম গো? এমন হইতে পারে লাখ টাকা দিয়াও চলতে পারি না আবার হাজার টাকায়ও চললাম। এডির কোনো হিসাব আছে! মানুষের দরকারের কী শ্যাষ আছে। আমি তো ভালাই আছি। ভালাই চলতাছি। আল্লায় চালাইতাছে।
আপনি যদি মন্ত্রী হতেন তাহলে প্রথমে কোন কাজটি করতেন?
না আমি মন্ত্রী হইতাম না, আমার রিকশা চালানোই ভালো। আমার অন্য কোনো কর্মের দরকার নাই। আমি কাম কইরা খাইতে চাই। মন্ত্রীরা তো কুনু কাম করে না। আমি কাম করতে চাই। কাম কইরা খাইতে চাই।