পশ্চিম এশিয়ার ঐতিহাসিক নদী ইউফ্রেটিস। এই নদীতে কয়েক বছর ধরে অবিশ্বাস্যভাবে কমে যাচ্ছে পানি। এর তলদেশে দেখা মিলেছে প্রাচীন এক রহস্যময় সুড়ঙ্গের, যা ভূগর্ভের নিচে পর্যন্ত বিস্তৃত। লিখেছেন নাসরিন শওকত
ইউফ্রেটিস নদী
ইউফ্রেটিস নদী পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘতম ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর একটি। যা ‘ফোরাত নদী’ নামে পরিচিত। টাইগ্রিস নদীর সঙ্গে মেলা ইউফ্রেটিসের অববাহিকায়ই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতা। আজ থেকে প্রায় ৬ হাজার বছর আগে এশিয়া মহাদেশের বুকে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার ধারক ও বাহক ইউফ্রেটিস। উন্নত যে সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ থেকে ৩০০০ অব্দের মধ্যে। ইতিহাসে মেসোপটেমিয়া বা ব্যাবিলনীয় বা সুমেরীয় সভ্যতার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এই সভ্যতা ও সেখানকার বাসিন্দাদের নিয়ে ইতিহাসবিদ ও প্রতœতাত্ত্বিকদের মধ্যে আগ্রহের শেষ নেই।
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা টাইগ্রিস (দজলা) নদী ও ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল। যার বর্তমান নাম ইরাক। ইউফ্রেটিসের উৎপত্তি তুরস্কে। তবে বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে টাইগ্রিস ও শাত আল-আরব নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে পারস্য উপসাগরে গিয়ে মিলেছে। তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরাকের ২ হাজার ৮শ’ কিলোমিটার (১৭০০ মাইল) এলাকাজুড়ে বয়ে চলেছে ইউফ্রেটিস। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বের শহর কোবনের ১০ কিলোমিটার উজান থেকে এর উৎপত্তি , যা কারা সু বা পশ্চিম ইউফ্রেটিস (৪৫০ কিলোমিটার) এবং মুরাত সু বা পূর্ব ইউফ্রেটিস (৬৫০ কিলোমিটার) হিসেবে পারস্য উপসাগরের সঙ্গমস্থলে গিয়ে মিলেছে। মুরাত নদীর উৎস থেকে আসা দাউদি ও ফ্রেনকেন নদীর মিলিত প্রবাহ ইউফ্রেটিসের দৈর্ঘ্যকে বাড়িয়ে তুলেছে। টাইগ্রিসের সঙ্গে মুরাতের সঙ্গমস্থল পর্যন্ত ইউফ্রেটিসের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে ১ হাজার ২৩০ কিলোমিটার গিয়ে পড়েছে তুরস্কে, ৭১০ কিলোমিটার সিরিয়ায় এবং ১ হাজার ৬০ কিলোমিটার রয়েছে ইরাকে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পারস্য উপসাগরে মিলিত হওয়া শাত আল-আরব নদীর দৈর্ঘ্য হলো ১৪৫ থেকে ১৯৫ কিলোমিটার।
ইউফ্রেটিস নদী তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক ও সৌদি আরবের অঞ্চলজুড়ে অভূতপূর্ব সাফল্য বয়ে এনেছে। এ অঞ্চলের পানির প্রধান উৎসও এই নদীটি। হাজারো বছর ধরে ইরাকের ভাগ্য নির্ভর করে আছে ইউফ্রেটিসের ওপর। যা এখনো পর্যন্ত বাস্তব সত্য। যদিও গত কয়েক দশক ধরে স্বৈরাচারী শাসন, যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদের চাপে ইরাকের জনগণের পক্ষে ঐতিহাসিক এই বাস্তবতা ভুলে যাওয়া সহজ। হাজার বছর ধরে ইরাকের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর ফালুজার পরিচিতির কেন্দ্রে ছিল ইউফ্রেটিস নদী। ইতিহাসের তথ্য মতে, প্রাচীন এই নদীর ওপর শহরটির কৌশলগত অবস্থান পারস্য থেকে রোমান দখলদারদের মিছিলকে আকৃষ্ট করেছিল। যারা তৃতীয় শতাব্দীতে ফালুজা আক্রমণ করেছিল। আরব থেকে আসা দখলদারদের কাফেলা ভূমধ্যসাগরের পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ফালুজায় এসে থামে। ওই কাফেলার উটকে পানি খাওয়াতে ইউফ্রেটিসের তীরে গিয়ে জড়ো হয় তারা। পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইসলাম প্রচারকারী যোদ্ধাদের কাছেও ইউফ্রেটিস নদী ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যা তারা নালা হিসেবে ব্যববহার করত। এরপর ধারাবাহিকভাবে গতিপথ পরিবর্তন হয় ইউফ্রেটিসের । ১৭ শতকে ইরাকের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর নাজাফ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। তবে ১৮ শতকের শুরুর দিকে অটোমান শাসকরা হিন্দিয়া খাল খনন করে। এর ফলে ইউফ্রেটিস আবার নাজাফের দিকে প্রবাহিত হয়। এদিকে ১৯৯০-এর দশকে সাদ্দাম হোসেনের দুই ছেলে উদয় হোসেন ও কুসার হোসেন ইউফ্রেটিস নদীর তীরে ভিলা তৈরি করেছিলেন। সেই সঙ্গে নদী থেকে পানি তোলার জন্য তৈরি করেন হ্রদও।
শুকিয়ে যাওয়ার কারণ
ইউফ্রেটিসের পানির প্রবাহ অস্বাভাবিক হারে কমে আসায় নদীটি ও তার আশপাশের জীবনধারায় এসেছে নানা পরিবর্তন। বিজ্ঞানী ও প্রতœতাত্ত্বিকদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তন মানব জাতির ভবিষ্যতের জন্য ভয়ংকর কোনো পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বর্ষাকালে ইউফ্রেটিস নদী তুরস্কের সীমান্ত দিয়ে উত্তর সিরিয়ায় প্রবাহিত হয়। যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে পেছনে ফেলে তেরছাভাবে ইরাকের দিকে ধেয়ে চলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্য মতে, ইউফ্রেটিসের ৯০ শতাংশ পানির প্রবাহ আসে তুরস্ক থেকে।
তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমের লেক ভ্যানের যথাক্রমে ৩ হাজার ২৯০ মিটার ও ৩ হাজার ৫২০ মিটার উচ্চতা থেকে কারা সু ও মুরাত সু নদীর জন্ম হয়েছে। কেবান বাঁধের নিচ দিয়ে প্রবাহিত এই দুই নদী এক সঙ্গে ইউফ্রেটিস নদীতে গিয়ে মিলেছে। যার পানির উচ্চতা প্রায় ৬৯৩ মিটার কমেছে। কেবান থেকে ৬শ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তবর্তী এই নদীর পানি বর্তমানে আরও ৩৬৮ মিটার নিচে নেমে গেছে। একসময়ে মেসোপটেমিয়ার উঁচু সমভূমিতে প্রবেশ করা ইউফ্রেটিস নদীর প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সিরিয়ায় প্রবাহিত ইউফ্রেটিসের পানির প্রবাহ ১৬৩ মিটার কমেছে। সে তুলনায় হিৎ ও শাত আল-আরব নদীর প্রবাহ মাত্র ৫৫ মিটার কমেছে। আজও ইরাকে বহমান ইউফ্রেটিস। তবে আগের মতো সমৃদ্ধি নেই প্রাচীন নদীটির। ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, গত বেশ কয়েক বছর ধরে নজিরবিহীনভাবে কমছে ইউফ্রেটিস নদীর পানির প্রবাহ। যার ফলে শুকিয়ে আসছে নদীটি।
ইউফ্রেটিসের পানির প্রবাহ কমে আসার সমস্যা প্রথম শুরু হয় তুরস্ক থেকে। তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের তরাস পর্বতমালার নিচের পানির প্রবাহের কাছের ১শ’ মাইলেরও বেশি উজানে যার জন্ম। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাদি জমি তৈরির জন্য তুর্কিয়ে সরকার দ্ইু প্রজন্ম ধরে ব্যাপকহারে বাঁধ নির্মাণের কাজ করে চলে। উচ্চতায় থাকা ইউফ্রেটিসের বুকে ১৯৭৪ সালে কেবান বাঁধটির উদ্বোধন করা হয়। আর আতাতুর্ক বাঁধটি শেষ হয় ১৯৯০ সালে। ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের দক্ষিণ-পূর্ব আনাতোলিয়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর ওপর ২২টি বাঁধ ও ১৯টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে তুরস্ক সরকার, যা প্রায় তুরস্কের এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। এদিকে প্রতিবেশী সিরিয়া ১৯৭০-এর দশকে তাবকা বাঁধ নির্মাণ করে এবং গৃহযুদ্ধের কারণে স্থল উন্নয়ন বন্ধ হওয়ার আগে ইউফ্রেটিস ও এর উপনদীতে আরও কয়েকটি বাঁধ যুক্ত করে। ১৯৭০-এর দশকে তুরস্ক ও সিরিয়ার এই বাঁধগুলো সচল হয়। এর পর থেকেই ইরাকে ইউফ্রেটিস নদীতে পানির প্রবাহ কমে গেছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এর পরের কয়েক দশক ধরে ইরাক তার পানির ন্যায্য অংশ পাওয়ার বিষয়ে দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে আলোচনা করে আসছে, যা বর্তমানে বিরোধে রূপ নিয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে। তুরস্ক ও সিরিয়া ইউফ্রেটিস নদীকে কয়েকটি শাখায় পরিণত করে। যার ফলে ইরাকের নিচুধারার ইউফ্রেটিস নদীটি প্রায় শুকিয়ে যায়। এর জবাবে ইরাক সরকার বাগদাদের উত্তর-পশ্চিমের ইউফ্রেটিসের শাখাকে থার্থার হ্রদের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য একাধিক খাল নির্মাণ করে। এতে তিন প্রতিবেশী দেশের ত্রিমুখী এই বিরোধ সহিংসতায় রূপ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যে আলোচনা স্থবির থাকে। তাই ইরাক তার উজানের অংশীদারদের সঙ্গে প্রায়ই বিতর্কিত অংশীদারত্বের সহায়তায় চলতে শুরু করে। বাগদাদ বিশ^বিদ্যালয়ের পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ মোতাজ আল-দাব্বাস বলেছেন, ‘তুরস্ক আমাদের কিছু পানি দেবে , যার বেশির ভাগই বর্জ্য ও সেচে ছিটানো পানি। যার গুণমান আগের মতো নয়।’
এদিকে ১৯৮০-এর দশকে সাদ্দাম সরকার ইউফ্রেটিস নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে। যা সিরিয়া সীমান্তবর্তী ইরাকের ১২০ মাইল দীর্ঘ এলাকাকে প্লাবিত করেছিল। এর সঙ্গে বৈশি^ক উষ্ণতা ইরাকের দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কিছু জলবায়ু মডেল অনুসারে, ২১ শতকের শেষ দিকে নদী অববাহিকায় গড় তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাষ্পীভবনের উচ্চ হার ও বৃষ্টিপাতের অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমার কারণ হবে। ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউটের ২০১৩ সালের গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে ইরাকের পানির পরিমাণ ‘নজিরবিহীনভাবে চাপের মুখে’ পড়বে। অন্যদিকে গবেষকরা বলেছেন, ‘মৌলিক পরিষেবাগুলো (যেমন বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের বণ্টন) ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এজন্য ইরাকে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ ও বড় টেকসই বিনিয়োগের প্রয়োজন।’
রহস্যময় সুড়ঙ্গ
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জলবায়ু সংকট। যার ফলে একদিকে হিমবাহ গলে বাড়ছে সমুদ্রের পানির স্তর। আর অন্যদিকে বৈশি^ক উষ্ণায়নের ফলে কমছে ভূপৃষ্ঠে ওপরের নদ-নদী ও খাল-বিলের পানি। সেই সঙ্গে জেগে উঠছে নদীর বুকে লুকিয়ে থাকা হাজারো বছরের প্রাচীন নগরী ও সভ্যতার নানা নিদর্শন, যা জন্ম দিচ্ছে নিত্যনতুন রহস্যের। তেমনি এক রহস্যের জন্ম দিয়েছে এশিয়া মহাদেশের প্রাচীন নদী ইউফ্রেটিস। দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাসবিদরা ইউফ্রেটিস নদীর নিচে থাকা একটি সুড়ঙ্গ নিয়ে গবেষণা করছেন। ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা দেখিয়েছেন, গত কয়েক বছরে তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমেছে ইউফ্রেটিস নদীর স্তর। সম্প্রতি পানির প্রবাহ কমে আসায় প্রাচীন এই নদীর নিচে তৈরি একটি সুড়ঙ্গ দৃশ্যমান হয়েছে। যা কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে ইতিহাসবিদ ও স্থানীয়দের মধ্যে। অনেকের দাবি, প্রাচীন কাহিনীতে বলা এটিই সেই সুড়ঙ্গ, যা অজানা কোনো রহস্যময় দেশে গিয়ে মিলেছে। মেসোপটেমিয়া বা ইরাকের প্রাচীন কাহিনীতেও ইউফ্রেটিস নদীর নিচে সুড়ঙ্গের কথা বলা আছে। যে সুড়ঙ্গকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা কাহিনী ও লোকগাথাও প্রচলিত । দেখা গেছে, নদীগর্ভে লুকিয়ে থাকা সুড়ঙ্গটি অনেক গভীরে নেমে গেছে। নিচে যাওয়ার জন্য ধাপে ধাপে কাটা রয়েছে সিঁড়ি। বহুকাল ধরে পানির নিচে থাকার পরও সুড়ঙ্গটির অধিকাংশই এখনো রয়েছে অক্ষত। যার কোনায় কোনায় প্রাচীনতার ছাপ স্পষ্ট।
প্রাচীন কাহিনী অনুসারে, ব্যাবিলনের রানী সেমিরামিস ইউফ্রেটিস নদীর বুকে একটি গোপন সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন। যা তিনি ব্যবহার করতেন নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত দুই প্রাসাদে যাতায়াতে। তবে অনেকেই বলে থাকেন, ব্যাবিলন শহরের দুই প্রান্তকে যুক্ত করার জন্য নদীর ভেতর দিয়ে এই সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। প্রচলিত আছে, রানী সেমিরামিস নদীর ওপর দিয়ে পারাপার পছন্দ করতেন না। তাই তার ইচ্ছাতেই নদীর মধ্য দিয়ে তৈরি করা হয় এই সুড়ঙ্গ। পুরু ইটের তৈরি সুড়ঙ্গটির নির্মাণকাজ শেষ হতে সময় লেগেছিল ২৬০ দিন। ইরাকে প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই সুড়ঙ্গের ওপারে রয়েছে অন্য এক জগৎ। যেখানে রয়েছে রহস্যের খনি।
এদিকে প্রাচীন এই সুড়ঙ্গটি কারা বানিয়েছিল বা কবে বানিয়েছিল এবং তাদের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল এ নিয়ে তেমন সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রচলিত ধারণা, এই সুড়ঙ্গ এক অজানা দেশে পৌঁছে দেয়। যেখানে থাকেন পরী ও দেবদূতরা। বছরের পর বছর ধরে ইউফ্রেটিসের বুকে তারাই রাজত্ব করছেন।
বলা হয়, শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইউফ্রেটিস নদী নিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এক হাদিসে তিনি বলেছেন, অচিরেই (এমন এক সময় আসবে) ফোরাত নদীতে স্বর্ণের খনি উন্মোচিত হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তখন বেঁচে থাকবে সে যেন তার থেকে কোনো অংশ গ্রহণ না করে (বুখারি হাদিস: ৭১১৯)। আরও এক হাদিসে বলা হয়েছে, কেয়ামত সংঘটিত হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত না ফোরাত নদীতে একটি স্বর্ণের পাহাড় প্রকাশ পায়। যে পাহাড়ের দখল নিয়ে হবে যুদ্ধ (সহিহ মুসলিম)। তবে ইউফ্রেটিসের তলদেশে প্রাচীন ও রহস্যময় ওই সুড়ঙ্গের সন্ধান সবাইকে যেমন বিস্মিত করেছে, সেই সঙ্গে এমন প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে, তবে কি মুহাম্মদ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণীই ধীরে ধীরে ফলতে শুরু করেছে? যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পাহাড়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি নদীর তলদেশে। শুধু রহস্যের দুয়ার খুলে দিয়েছে ইউফ্রেটিসের সুড়ঙ্গ।