আপন কেউ আর বেঁচে নেই, জানেন না খোকন বসাক

চমেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে যন্ত্রণাকাতর খোকন বসাক জানেন না, তার আপন বলতে এখন আর কেউ নেই।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, অগ্নিদগ্ধ খোকন হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার শরীর ৪০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। তিনি শঙ্কামুক্ত নন। কথা বলতে পারছেন না। তার চিকিৎসা চলছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একতেহার হোসেন বলেন, অটোরিকশাচালক খোকন বসাকের মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান মারা গেছেন। তার অবস্থাও গুরুতর। খোকন এখনও জানেন না তার পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই। ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন লাগার কারণে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। খোকন গায়ে আগুন নিয়ে বের হয়েছিল।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মিলকী জানান, খোকন বসাকের ডান হাত ও পিঠ পুড়ে গেছে। তাকে উদ্ধার করে চমেকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ২টা ১০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ভোর ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে চমেকে পাঠানো হয়। রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়রা জানান, বসতঘরের জানালার গ্রিল কেটে আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আগুনে খোকন বসাকের অটোরিকশাটিও ভস্মীভূত হয়।

অটোরিকশাচালক খোকন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তিন কক্ষবিশিষ্ট ঘরটিতে বের হওয়ার দরজা ছিল মাত্র একটি। স্থানীয়দের ধারণা, রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুন লেগে সেখানে মজুতকৃত বিপুল পরিমাণ কাঠের লাকড়ির মাধ্যমে তা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।