বিএনপির সাত সংসদ সদস্যের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচার-প্রচারণা চালানোর সুযোগ না থাকলেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীরা এরই মধ্যে নেমে পড়েছেন অনানুষ্ঠানিক প্রচারে। পাশাপাশি বিজয়ী হতে চলছে নানা সমীকরণ। তবে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দেওয়ায় মূলত জাতীয় পার্টি (জাপা) এবং ১৪ দলীয় জোটের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীকে ঘিরে চলছে ভোটারদের চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রার্থীরাও ভোটারদের কাছে টানতে এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া এ আসনের উপনির্বাচনে পাঁচ প্রার্থী গণসংযোগে নেমে পড়েছেন। তবে নির্বাচনী মাঠের দৌড়ে এগিয়ে আছেন ১৪ দলীয় জোটের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ইয়াসিন আলী এবং জাপার হাফিজউদ্দীন আহম্মেদ। তাদের মধ্যেই মূল লড়াইটা হবে এমন আলোচনা চলছে সর্বত্র। অন্য প্রার্থীদের নেই কোনো হাঁকডাক। ভোটারদের আলাপ-আলোচনায়ও স্থান নেই তাদের।
পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল উপজেলার দুটি পৌরসভা এবং ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসন। ভোট ও জোটের রাজনীতির সমীকরণে এ আসনটি আওয়ামী লীগ তার শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি এবং সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে গত কয়েকটি নির্বাচনে ছেড়ে দিয়েছে। যারই ধারাবাহিকতায় এবারের উপনির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ।
সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, ১৪ দলের প্রার্থীর ভাগ্য নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের ওপর। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা পিছুটান দিলে ভোট বিপর্যয় ঘটতে পারে ওয়ার্কার্স পার্টি প্রার্থীর। আর তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, এ আসনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াতের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট রয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের কিছু ভোটার নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন না। তবে কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাদের ভোটও এ নির্বাচনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।
পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমদাদুল হক দলের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবার প্রার্থী হননি।
শরিক দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই তিনি কাজ করছেন জানিয়ে বলেন, ‘এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। তাই এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী মনোনয়ন না করায় হতাশায় ভুগছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।’
নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ইয়াসিন আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দশম সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম। তখন এলাকার দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন করেছি। এবার নির্বাচিত হলে অবশিষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ করব।’
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কতটুকু পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সম্পর্ক ভালো, আশা করি ভোটের মাঠে সবসময় পাশে থাকবে।’
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি প্রার্থী হাফিজউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘এ সরকারের প্রায় ১৫ বছরে তেমন কোনো উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়। তাই জাতীয় পার্টির পক্ষেই এবার ভোট দেবেন এলাকার ভোটাররা। ২০০৮ সালে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হই। তখন এলাকার উন্নয়নে দৃশ্যমান কাজ করেছি। এ ছাড়াও এলাকার মানুষের পাশে সবসময় ছিলাম ও থাকব।’
জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপনির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, জাকের পার্টি ও ন্যাশনাল পার্টিসহ ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। ৮ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোপাল চন্দ্র রায়ের মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির দায়ে বাতিল হয়। ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩১৪ জন ভোটারের এ আসনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ইভিএমে ১২১টি ভোটকেন্দ্রের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে।