পর্যটন মৌসুমের মাঝামাঝি এসে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। গত অক্টোবরে মৌসুম শুরুর আগে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শর্তসাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ৬১০ জন যাত্রী নিয়ে এমভি পারিজাত ও এমভি রাজহংস নামের দুটি জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান জাহাজ চালুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জাহাজে যাত্রী ধারণক্ষমতার বেশি ছিল না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ শাহীন ইমরান।
ডিসি জানান, বুধবার নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভা হয়। সভায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়। তারই আলোকে শুক্রবার সকাল থেকে দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। আজ শনিবার থেকে লাইসেন্স ও ফিটনেস আছে এমন সব জাহাজ চলবে বলে জানান তিনি।
মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানান, এ ক্ষেত্রে জাহাজ কর্তৃপক্ষকে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। তা না মানলে জাহাজ চলাচলের অনুমতি বাতিল করা হবে।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। জাহাজে পর্যাপ্ত ঝুড়ি রাখতে হবে, যাতে চিপস বা কোনো পলিথিন ও প্লাস্টিক সাগরে না ফেলে এবং প্রতিটি জাহাজে এ বিষয়ে সতর্কতামূলক প্ল্যাকার্ড দিতে হবে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্ল্যাস্টিক বর্জ্য জাহাজে করে এপার নিয়ে আসতে সাহায্য করতে হবে।
নাব্যসংকটের কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও ওই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ছিল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমার অংশে উত্তেজনা। মিয়ানমারের সম্ভাব্য মর্টার শেল থেকে পর্যটকদের নিরাপদে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে তখন দেশ রূপান্তর সংবাদ প্রকাশ করেছিল।
ওই সময় বাংলাদেশ সীমান্তে এবং দুই দেশের শূন্যরেখায় কয়েক দফা মর্টার শেল নিক্ষেপ করে মিয়ানমার। এতে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়। দফায় দফায় প্রতিবাদ করেছে বাংলাদেশ।