উন্মুক্ত চাঁদ। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক। তার নেতৃত্বেই ২০১২ সালে যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ভারত। তবে উন্মুক্তের ক্যারিয়ারটা বেশিদূর এগোয়নি। ২০২১ সালের আগস্টে উন্মুক্ত ভারতের হয় সবরকম ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে খেলতে আসা উন্মুক্তের কাছ থেকে তার ভবিষ্যৎ ভাবনা শুনেছেন দেশ রূপান্তরের সামীউর রহমান
আরও একবার বাংলাদেশে স্বাগতম। আগে বাংলাদেশের ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় খেলেছিলেন, এবার এসেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ খেলতে। কতটা রোমাঞ্চিত আপনি? এ আসর নিয়ে প্রত্যাশাই বা কতটুকু?
উন্মুক্ত চাঁদ : ধন্যবাদ। হ্যাঁ, প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলছি এবং খুবই রোমাঞ্চিত এ আসরে খেলতে পেরে। আমি অনেকবারই বিপিএল টিভিতে দেখেছি, অবশেষে খেলতে পারছি কারণ আমি এখন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছি। অবশ্যই লক্ষ্য এবং প্রত্যাশা ভালো করার, কেউ যখন কোনো টুর্নামেন্টে খেলে সেখানে একজন ক্রিকেটারের লক্ষ্য থাকে শিরোপা জয়ের, ভালো করার, দলের জয়ের অবদান রাখার। খুব স্বাভাবিকভাবে সেটাই চাইব আর শিরোপার কথা মাথায় রেখেই আমরা খেলছি।
বিশ্বজুড়ে এখন অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হচ্ছে। এ লিগগুলো কি যেসব খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত নয়, তাদের জন্য একটা চমৎকার বিকল্প হয়ে উঠছে?
উন্মুক্ত চাঁদ : হ্যাঁ অবশ্যই, বিশ্বজুড়েই এখন অনেক ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। এটা ক্রিকেটারদের জন্য একটা বড় সুযোগ। এটা স্বাভাবিক যে প্রত্যেক পেশাদার ক্রিকেটারের পক্ষে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সম্ভব নয়। তাদের জন্য এ লিগগুলো, ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলো একটা চমৎকার সুযোগ করে দিয়েছে খেলার মান বাড়াবার, নিজেকে আরও ভালো ক্রিকেটারে পরিণত করার আর বিখ্যাত হয়ে ওঠার। ফলে যখনই তাদের সামনে সুযোগ আসবে দেশের হয়ে খেলার, তখন তারা আরও ভালো অবস্থায় থাকবে, আরও পরিণত জায়গায় থাকবে ক্রিকেটার হিসেবে।
আমরা এখন দেখছি অনেক ক্রিকেটারই জাতীয়তা বদল করছেন। টিম ডেভিড, ডেভন কনওয়ে এমনকি ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এউইন মরগানও জাতীয়তা বদল করেছেন? আপনার কি মনে হয়ে ক্রমেই এ ব্যপারটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে?
উন্মুক্ত চাঁদ : আমার মনে হয় আরও ভালো সুযোগের আশায় খেলোয়াড়রা আরও বেশি করেই এ পথ অবলম্বন করবে। একজন পেশাদার হিসেবে যে কেউই চাইবে খেলোয়াড়ি জীবনের সর্বোচ্চটা কাজে লাগাতে, তবে মাঝেমধ্যে এমনটা হয় যে নিজের দেশে থেকে এ সুযোগটা নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে এখন তো বিশ্বায়নের যুগ, অনেকেই জাতীয়তা বদলেছে তাই আমার মনে হয় এখন ক্রিকেটাররা জাতীয়তা বদলের সুযোগ পেলে সেটা গ্রহণই করবে।
আপনি তো যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। আপনি কি বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন? মার্কিন জাতীয় দলে কবে নাগাদ আপনাকে দেখা যেতে পারে?
উন্মুক্ত চাঁদ : আমি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্য হিসেবে বিবেচনায় আসব। এই মুহূর্তে আমি যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় আছি, আইসিসি নির্ধারিত ‘কুলিং ডাউন’ সময়ে আছি অর্থাৎ আমার অন্তর্বর্তীকালীন তিন বছর চলছে। তবে বিশ্বকাপের আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার জন্য যোগ্য হয়ে উঠব।
আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশের অনেকেই বিপিএলে খেলছে। এটা কি এসব দেশের ক্রিকেটারদের জন্য বড় সুযোগ নিজেদের মেলে ধরার? কারণ অনেক সময় দেখা যায় তাদের জাতীয় দল একটা মনোযোগ কাড়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায় না?
উন্মুক্ত চাঁদ : আমার মনে হয় তাদের জন্য এটা বড় সুযোগ। সহযোগী দেশগুলো থেকে অনেকেই খেলছে, তাদের অনেকের জাতীয় দলের জন্যই পরের পর্যায়ে যাওয়াটা কঠিন কিংবা শীর্ষ পর্যায়ের দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত খেলাটাও কঠিন। তবে এ দেশগুলোতেও বেশ কিছু প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে এবং এ ধরনের লিগগুলো তাদের জন্য নিজেকে মেলে ধরার বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে যারা এসব দেশের ভালো ক্রিকেটার তারা একটা পরিচিতিও পাবে, যেটা তাদের দেশের ক্রিকেটের জন্যও ভালো। খেলোয়াড়রা যত ভালো হবে, দলও তত ভালো হবে এবং সাফল্যও আসবে।
আপনি এখন বাংলাদেশে খেলছেন, এর আগে খেলেছেন নেপালে এবং অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। এই বিভিন্ন দেশ, দল, ড্রেসিংরুম এসবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা কতটা কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং?
উন্মুক্ত চাঁদ : এটা একটা অন্যরকম চ্যালেঞ্জ। একেক সময় একেকটা দল, খেলোয়াড়, কোচ সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এটা শিখতেই হবে আর আমি এখনো শিখছি। কারণ একটা দেশ থেকে অন্য একটা দেশ আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা। চট করে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়, এতে সময় লাগে। বুঝতে হবে আমি কী করতে চাই এবং আর কীভাবে নিজের সেরাটা দিতে পারি। এ ক্ষেত্রে কোন দেশে আছি সেই দেশের এবং সেই দলের সংস্কৃতিটা বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আসলে কোন দলে যোগ দিয়েই রাতারাতি পারফর্ম করাটা সহজ নয় কারণ বেশিরভাগ সহ-খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যরাই অচেনা-অজানা। তবে যত দলের সঙ্গে মেশা যাবে, সংস্কৃতিটা বোঝা যাবে... ততই কঠিন কাজটা সহজ হয়ে আসবে।