সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের লেক থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুটির আসল পরিচয় মিলেছে। জানা গেছে, হাসিবুর রহমান নামের শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণও। হাসিবুরের লাশ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় আটক সাইদুল নামের এক কিশোর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে হত্যাকা-ের কথা। বলেছে, লেকের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয় শিশু হাসিবুরকে।
গতকাল রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, হাসিবুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার রাজপাট গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। মায়ের সঙ্গে সাভারের দিলকুশাবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। লাশ উদ্ধারের তিন দিন আগে থেকে নিখোঁজ ছিল সে। অন্যদিকে সাইদুল (১৪) সাভারের জামসিং এলাকায় থাকত। হাসিবুরের সঙ্গে সাইদুলও জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় ভিক্ষা করত। সাভার মডেল থানায় মারামারি সংক্রান্ত আগের একটি মামলায় জেলও খেটেছে সে। হাসিবুবের মা-ও তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
সাইদুলের বরাতে পুলিশ জানায়, জাতীয় স্মৃতিসৌধের লেকের একটি নৌকায় ওঠার জন্য হাসিবুরকে ধাক্কা দিতে বলে সে। তবে হাসিবুর কথা না শোনায় তাকে মারধর করে এবং পানিতে চোবাতে থাকে সাইদুল। একপর্যায়ে হাসিবুর অচেতন হয়ে পড়লে সে অন্যদের ডাক দেয়। স্মৃতিসৌধে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও দর্শনার্থীরা হাসিবুরকে উদ্ধার করে। হাসিবুরের মা দিপা জানান, ১১ জানুয়ারি দিলকুশাবাগ থেকে নিখোঁজ হয় তার ছেলে। শনিবার রাতে খবর পেয়ে থানায় গিয়ে ছেলের লাশ দেখেন তিনি।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত রায় বলেন, নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাইদুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।