অনলাইন টিউটরিং দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। করোনা মহামারীকালে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা যথারীতি পড়াশোনা বা পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনলাইন মাধ্যমকে বেছে নিয়েছেন। অনলাইন টিউটরিং সহজ ও সুবিধাজনক, পাশাপাশি চ্যালেঞ্জিংও বটে। এ সময়ে অনলাইন টিউটরিংকে অনেকেই বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে। লিখেছেন অরণ্য সৌরভ
অনলাইনে পড়াতে ভালো লাগা থেকে ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রিয়াদ এডুকেয়ার শুরু করেন রিয়াদ হোসেন। যা এখন হয়ে উঠেছে তার পেশা। রিয়াদ হোসেন বলেছেন, ‘একসঙ্গে ২-৩ জন যেমন পড়ানো যায়, তেমনি ব্যাচ উপায়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীও একসঙ্গে পড়ানো যাচ্ছে। অনলাইনে পড়ানোর এটা অনেক বড় সুবিধা। তবে কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফেইস টু ফেইস কথা বলতে পারছি না, এটুকুই আমার কাছে অসুবিধা মনে হয়।’
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম। করোনাকালে নরসিংদীতে অফলাইনে টিউশনি করাতেন। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ঢাকা চলে আসায় নরসিংদীর শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য বেছে নেন অনলাইন প্ল্যাটফরম। তিনি বলেন, ‘যাতায়াতের সময় এবং খরচ অপচয় হয় না। তবে মোবাইল ডাটা কেনার জন্য কিছু খরচ হচ্ছে। মাঝে মধ্যে নেটওয়ার্কের জন্য কিছুটা ঝামেলায় পড়তে হয়।’
পড়াতে যা প্রয়োজন : তৌহিদুল ইসলাম প্রথমে শুরু করেছিলেন একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং ফোন বসানোর জন্য একটি স্ট্যান্ড (টাইপড) নিয়ে। পরে ল্যাপটপ এবং গ্রাফিক্স ট্যাবলেট ব্যবহার শুরু করেন। এছাড়া পড়ানোর জন্য জুম (তড়ড়স) এবং ওপেন বোর্ড সফটওয়্যার (open board software) প্রয়োজন পড়বে। তাছাড়া বইয়ের হার্ডকপি হাতে রাখতে না চাইলে, সহজেই সঙ্গে রাখা যায় বইয়ের পিডিএফ কপি।
রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘অনলাইনে পড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হাইস্পিড ইন্টারনেট সেবা। এটি সমস্যা বা বিঘিœত হলে অনলাইনে পড়াতে বিরক্ত চলে আসে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগে ঝামেলা হয়। এছাড়া ভালো ক্যামেরা বা মোবাইল, হোয়াইট বোর্ড বা স্মার্ট বোর্ড, টাইপড ইত্যাদি টুকিটাকি জিনিসপত্রের প্রয়োজন।’
যোগ্যতা বা দক্ষতা : একের অধিক কিংবা নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে পারদর্শিতা প্রয়োজন। হতে পারে ইংরেজি, গণিত, বাংলা, বিজ্ঞান কিংবা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং। এছাড়া নাচ, গান, সংগীতসহ অন্যান্য যেকোনো বিষয়ে পারদর্শী হলেই হবে। অ্যাকাডেমিক সনদ যোগ্যতার মাপকাঠিতে মাপা হয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সর্বজন পরিচিতি, অনলাইনে শিক্ষাদানে অভিজ্ঞতা এ পেশার প্লাস পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়।
যেভাবে শুরু করবেন : প্রথমত, অনলাইন টিউশনির সাইটগুলো ভালো করে পর্যবেক্ষণ করুন। আপনার প্রোফাইল তৈরি করুন নিয়মমাফিক। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা প্রোফাইল দেখে, উপযুক্ত মনে হলে আপনাকে বাছাই করে নেবে। ধীরে ধীরে আপনার প্রোফাইলে যখন শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে তখন টিউশনের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে।
দ্বিতীয়ত, অনলাইন টিউশনের জন্য নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট খুলতে পারেন। সেখানেও আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন।
তৃতীয়ত, অন্যান্য সব মাধ্যমের চেয়ে ফেইসবুক বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আপনি একটি ফেইসবুক পেইজ বা গ্রুপ খুলে অনলাইন টিউশন করতে পারেন। সেখানে আপনার কিছু ক্লাস, নোট, পরামর্শমূলক ভিডিও পোস্ট করতে পারেন। শিক্ষার্থীদের চাহিদা মতো আপনাকে খুঁজে নেবে। ফেইসবুক পেইজটি অল্প সময়ে ছড়িয়ে দিতে বুস্ট করতে পারেন। পেইজ বা গ্রুপে লাইভ ক্লাস, ভিডিও আপলোড ইত্যাদি মাধ্যমে টিউশনের শিক্ষার্থী খুঁজে নিতে পারেন। এছাড়া বন্ধুবান্ধব এবং অন্যদের সঙ্গে পেজটি শেয়ার করতে পারেন, যেন সহজেই সবার মধ্যে পেইজটি ছড়িয়ে যায়।
শিক্ষার্থী সংগ্রহ এবং আয়-রোজগার : অনলাইনে টিউশনি করার জন্য বিভিন্ন উপায়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। রিয়াদ হোসেনের মতে, ফেইসবুক পোস্ট এবং পুরাতন শিক্ষার্থীদের রেফারেন্সের মাধ্যমে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। তার মতে, অনলাইন টিউশনি প্রফেশন হিসেবে নিলে, ব্যাচ পড়ানোর মাধ্যমে মাসে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।