ব্যাডমিন্টনের দ্বন্দ্বে জোড়া খুন, দুই সহোদর গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে চাচাতো দুই ভাই নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব লারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় জোড়া খুনের এ ঘটনা ঘটে।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার দিকে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল এলাকা থেকে দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও লোহার রড জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা পূর্ব লারপাড়া এলাকার আবদুল হামিদ মনু ড্রাইভারের ছেলে কায়সার হামিদ (২৮) ও নুরুল হুদা জুনু ড্রাইভারের ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুল (৩০) । নিহতরা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। একই ঘটনায় আহত হন মুফিজ উদ্দিন (২১) নামে আরও একজন। তিনি একই এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতে খুনের অভিযোগে আটকরা হলো ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব লারপাড়ার আবদু খলিলের ছেলে জয়নাল আবেদীন (২৮) ও কামাল উদ্দিন (২৫)।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঝিলংজা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন করে এলাকার কিশোররা। অন্যদিনের মতো সোমবার রাতেও সেখানে খেলছিল একদল কিশোর। সে সময় কায়সার ও সাইদুল গিয়ে খেলারত কিশোরদের র‌্যাকেট নিয়ে খেলার চেষ্টা চালান। তখন এলাকার খলিলের ছেলে আতিক নামে এক কিশোর তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কায়সার ও সাইদুল তাকে মারধর করেন। মার খাওয়ার পর আতিক বাড়ি গিয়ে বিষয়টি জানালে তার বড় ভাই জয়নাল, কামাল ও চাচাতো ভাই মিজানসহ অন্যরা ধারালো দা, ছুরি নিয়ে বের হয়। পথে কায়সার ও সাইদুলকে পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুজনকে বুকের ওপর অংশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। রক্তাক্ত অবস্থায় তারা লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে কায়সার ও সাইদুল মারা যান।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জোড়া খুনের ঘটনায় মূল হোতা দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেখানো মতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও ধারালো অস্ত্র এবং লোহার রড উদ্ধারের পর জব্দ করা হয়েছে।’

এদিকে ময়নাতদন্তের পর গতকাল বিকেলে নিহত দুজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর মাগরিবের নামাজ শেষে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।