ব্রাজিলে কট্টর ডানপন্থিদের দাঙ্গা রুখতে ব্যর্থ নিরাপত্তারক্ষী তথা মিলিটারি পুলিশ সংস্কার ও তাদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ইতিমধ্যে গভর্নর এবং পুলিশের প্রধানকে সরানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট তার রাষ্ট্রীয় বাসভবন পাহারা দেওয়া চল্লিশ নিরাপত্তারক্ষীকেও সরিয়ে দিয়েছেন।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি সরকারি ভবন ভাঙচুরকারী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন তিনি। গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য মিলিটারি পুলিশের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করার পর প্রেসিডেন্টের বাসভবন পাহারা দেওয়া নিরাপত্তা রক্ষীদের সরিয়ে দিয়েছেন লুলা দা সিলভা। মঙ্গলবার তার এই সিদ্ধান্ত দেশটির সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। ব্রাজিলে প্রেসিডেন্টের বাসভবন হিসেবে পরিচিত আলভোরাদা প্রাসাদ রক্ষায় নিয়োজিত বেশিরভাগ নিরাপত্তারক্ষী সেনাবাহিনীর সদস্য। তবে এখানে কিছু সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী এবং একটি সামরিকায়িত পুলিশ বাহিনীর সদস্যও রয়েছে। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট লুলা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কট্টর ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর সমর্থকদের বিনা বাধায় ব্রাসিলিয়ার প্রধান ভবনগুলোতে হামলা চালাতে দিয়েছে।
লুলা বলেন, ‘মিলিটারি পুলিশের মধ্যে অনেক লোক ওই দাঙ্গায় ইন্ধন দিয়েছে। আমি নিশ্চিত যে, প্রাসাদের দরজা দাঙ্গাকারীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার জন্য খোলা রাখা হয়েছিল, কারণ আমি দেখিনি যে দরজাটি ভাঙা হয়েছে।’ ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিলিটারি পুলিশ সম্পর্কে এই মূল্যায়ন কেবল লুলার একার নয়। দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ জনগণ মনে করেন সেদিন ব্রাসিলিয়ায় যে তাণ্ডব হয়েছে তা ঠেকাতে মিলিটারি পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করেনি।
জাইর বলসোনারো গত বছরের অক্টোবরের নির্বাচনে পরাজয়ের পর বারবারই সেই ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির নতুন সরকারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে দেশত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। এরপর গত ৮ জানুয়ারি তাণ্ডবের শিকার হয় ব্রাজিলের কংগ্রেস ভবন, সুপ্রিম কোর্টসহ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো।