ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় হারবাল ওষুধের ট্রায়াল শুরু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় দেশীয় হারবাল ওষুধ ‘কালমেঘ’র ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগ এই ট্রায়াল করছে। বিভাগের চিকিৎসকেরা মনে করছেন, এই ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ ফ্যাটি লিভার নিরসনে ভালো কাজ করবে।

গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ কালোমেঘের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আইয়ুব আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ও ট্রায়াল পদ্ধতি উপস্থাপন করেন একই বিভাগের রেসিডেন্ট ডা. মো. সাব্বির হোসেন।

ট্রায়ালের ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান পৃথিবীতে পরিবেশবান্ধব, অরগানিক খাদ্য ও চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে এসবের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। আমরা দেশীয় হারবাল ওষুধগুলো নিয়ে গবেষণা শুরু করেছি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। এরমধ্যে কালমেঘও একটি ভেষজ উদ্ভিদ। এটি গ্রিন চিরতা নামে বেশি পরিচিত। ট্রায়েলের জন্য কালমেঘ রাজশাহীর একটি অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়। আমরা গবেষণার সময় দেখেছি, কালমেঘের ২০টি উপাদানের মধ্যে একটি উপাদান আছে যা ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় একটি হারবাল কোম্পানির সহযোগী তায় এটি প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। ট্রায়াল সম্পন্ন হলে তখন বলতে পারব এটা কতটুকু কার্যকর। তবে ভালো ফল পাওয়া যাবে আশা করছি।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরও বলেন, কার্যকর গবেষণার জন্য জাপান ও ভারতসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট যৌথভাবে কাজ করছে। দেশের ওষুধ রপ্তানি খাত থেকে বছরে ৭৪ মিলিয়ন ডলার আয় হচ্ছে। প্রতিবেশী ভারত প্রতি বছর আয়ুর্বেদ খাত থেকে উপার্জন করছে ৮০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অথচ আমরা আমাদের এক সময়কার ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদ এবং হেকিমী চিকিৎসাশাস্ত্র হারাতে বসেছি। এখনো আমাদের দেশে এই শাস্ত্রগুলোর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জ্ঞান আর এদেশের স্থানীয় হারবাল ওষুধগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে ঠিকমতো উপস্থাপন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগে হেপাটাইটিস বি রোগের নতুন আবিষ্কৃত ওষুধ ন্যাসভ্যাকের অধিকতর গবেষণার কাজ চলছে। করোনা ভাইরাসের ফুল জেনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেটও ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহিত করার জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে ভাইস-চ্যান্সেলর পদক। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জনের অধিক পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক পিএইচডি করছেন।