‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির আশার আলো দেখা যাচ্ছে: নাসির উদ্দীন ইউসুফ

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত সিনেমা 'শনিবার বিকেল' মুক্তির আশার আলো দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

শনিবার (২১ জানুয়ারি) সেন্সর বোর্ডের আপিল কমিটির শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি ও সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে গঠিত সাত সদস্যের সেন্সর আপিল কমিটিতে সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট অভিনয়শিল্পী সুবর্ণা মুস্তাফা, সাবেক অতিরিক্ত সচিব নূরুল করিম, অভিনেত্রী সুচরিতা ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত সদস্য হিসেবে এবং সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন।

এর আগে ১৫ সদস্যের সেন্সর বোর্ড ২০১৯ সালে সর্বসম্মতিক্রমে সিনেমাটি প্রদর্শনের উপযোগী নয় বলে মত দিয়েছিল।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ‘শনিবার বিকেল’-এর ছাড়পত্র না পাওয়া প্রসঙ্গে সেন্সর বোর্ডের অন্যতম সদস্য ইফতেখার নওশাদ দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, সিনেমাটি গুলশানের হলি আর্টিজানের হামলাকে উপজীব্য করা হয়েছে। ছবিটি যদি দেশের বাইরে প্রচারিত হয় তাহলে তা ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হবে।

আরও জানান, এ ছবি বাণিজ্যিকভাবেও বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকতে পারে। এর ফলে বিদেশিদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে যা আমাদের দেশে বিনিয়োগে বাধার সৃষ্টি করবে।

তবে প্রথমে শোনা যায় ‘শনিবার বিকেল’ সেন্সরে প্রশংসিত হয়েছে, কিন্তু পরে পর্যায়ক্রমে আসে ছাড়পত্র না পাওয়া ও নিষেধাজ্ঞার খবর। এরপর বিশ্বের একাধিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ছবিটি।

২০১৬ সালে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার ছায়া ধরে ‘শনিবার বিকেল’ বা ‘স্যাটার ডে আফটারনুন’ নির্মিত হয়েছে বলে আগে থেকেই কেউ কেউ মন্তব্য করে আসছিলেন।

ওই সময় সিনেমাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের গুঞ্জন উঠলে ফারুকীর প্রতিষ্ঠান ছবিয়ালের পক্ষ থেকে বলা হয়, যারা এই অপপ্রচার করছেন তাদেরকে বলছি ধৈর্য ধারণ করে ছবি দেখে তারপর কথা বললে ব্যাপারটা স্বাস্থ্যকর হবে।

ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ফিলিস্তিনের অভিনেতা ইয়াদ হুরানি, জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, ইরেশ যাকের, মামুনুর রশীদ ও কলকাতার পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়সহ অনেকে। প্রযোজনায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও জার্মানির প্রতিষ্ঠান।

‘শনিবার বিকেল’-এর এমন পরিণতির পর বাংলা ছবির দিকে আর এগোননি ফারুকী। মুম্বাই নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকীকে নিয়ে নির্মাণ করেন ইংরেজি ভাষার ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’। তার পরের ছবি ‘আ বার্নিং কোয়েশ্চন’ রয়েছে প্রস্তুতির পর্যায়ে।