পৃথিবীর ফুসফুসের ক্ষত সারাচ্ছেন লুলা

পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত মহাবন আমাজন। কিন্তু অবৈধ সোনার খনি, খামার তৈরি এবং দেদার কাঠের ব্যবসায় উজাড় হয়েছে, পুড়ে ছারখার হয়েছে এই অরণ্য। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে অরণ্যের ব্রাজিল অংশে, চরম ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর আমলে ৭৫ শতাংশ বেড়েছিল উজাড়ের পরিমাণ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলে নির্বাচনী প্রচারণায় বামপন্থি প্রবীণ নেতা লুলা দা সিলভা আমাজনের এ ক্ষত সারাবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। দেশটিতে গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লুলা প্রতিদ্বন্দ্বী বলসোনারোকে পরাজিত করেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথের পর কথা রাখতে শুরু করেছেন লুলা। ব্রাজিলে আমাজন বন উজাড়ের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। দেশটির পরিবেশ সংস্থা ইবামা বার্তা সংস্থা এএফপিকে শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। ইবামা জানায়, আমাজনে কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্যে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। গেল ১৬ জানুয়ারি কমিটির সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই ফেডারেল সরকার বন উজাড়ের পরিমাণ কমিয়ে আনতে একটি পরিকল্পনা তৈরিতে পরিবেশগত কমিটিকে দায়িত্ব দেয়।

ইতিমধ্যে আমাজন বন রক্ষায় মন্ত্রিসভায় আমাজনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছেন লুলা। তার মন্ত্রিসভায় পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ এবং আমাজন বিশেষজ্ঞ মারিনা সিলভা। এর আগে লুলা যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখনো পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এদিকে গত বুধবার লুলা ব্রাজিলের ‘গ্লোবো নিউজ’ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বন রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপের জন্যে তিনি বিশেষ পুলিশ ফোর্স গঠন করবেন। এ ছাড়া আমাজনে অংশ রয়েছে এরকম দক্ষিণ আমেরিকার বাকি দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করতে চান বলেও জানিয়েছেন। যেকোনো উপায়ে আমাজন উজাড় প্রতিহত করতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার করেছেন তিনি। লুলা দা সিলভা গত ১ জানুয়ারি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমাজন রক্ষায় একের পর এক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন। ব্রাজিলের ৬০ শতাংশ জায়গাজুড়ে রয়েছে আমাজন বন। পৃথিবীজুড়ে যে রেইনফরেস্ট তার অর্ধেকটাই এই অরণ্য নিজেই।