ভাড়ায় চলছে ফুটপাত!

ঢাকার দোহার পৌরসভার পথচারীদের চলাচলের ফুটপাতের প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের জায়গা দলখ করে হকারদের অস্থায়ী দোকান ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দোকান মালিকদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দোহার পৌরসভার থানার মোড় থেকে জয়পাড়া লটাখোলা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পথচারীদের চলাচলের ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীরা। এদিকে জয়পাড়া বড় ব্রিজের ওপর ও আশপাশে হকারদের দখল অন্যদিকে ব্রিজে চলাচলরত যানবাহনের কারণে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানকার পথচারীদের।

জানা যায়, লটাখোলা, জয়পাড়াকে ঘিরে জয়পাড়া বড় ব্রিজ হয়ে থানার মোড় পর্যন্ত ফুটপাতগুলো দখল করে হকাররা ছোট ছোট দোকান বসিয়েছে। এসব দোকানে বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে ক্রয়-বিক্রয় চলছে। এতে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণের।

জয়পাড়া বাজারে বিভিন্ন শপিংমল, ক্লিনিক, থানা, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই নানা প্রয়োজনসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসে জয়পাড়ায়।

প্রতি বৃহস্পতিবার জয়পাড়া বাজারে 'হাটবার' থাকায় মানুষের ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায়। হকারদের ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। একদিকে ফুটপাত দখল, অন্যদিকে জয়পাড়ায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল রেখে রাস্তা দখল করায় পথচারীদের হাঁটার জায়গাও নেই। সেই সাথে জয়পাড়া বাজারে রাস্তায় হকারদের বসানোর জন্য প্রতিদিন ২৫০-৫০০ টাকা নিচ্ছে স্থানভেদে দোকানিরা।

দোহার উপজেলার অধিকাংশ মানুষ বিদেশে থাকায় ব্যাংক পাড়াসহ অফিস-আদালতে ভিড় বেশি থাকে। ভিড়ের মধ্যে গাঘেঁষাঘেঁষি করে চলার সময় অনেকের টাকাপয়সাসহ মূল্যবান কাগজপত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনা ঘটে হরহামেশাই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে হকার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হলেও কয়েকদিন পর পরিস্থিতি আগের মতো হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, অধিকাংশ হকারকে ফুটপাতে বসান ওই স্থানের পেছনের মার্কেট ও দোকানের মালিকেরা। তারা হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন ভাড়া নিয়ে থাকেন। এমনকি স্থানভেদে প্রতিদোকান থেকে প্রতিদিন ২৫০-৫০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।

এক পথচারী বলেন, হকারদের কারণে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হাঁটতে হয় আমাদের। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এটা যদি সমাধান না করা হয় তাহলে দিনদিন আরো সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে জয়পাড়া বাজার।

দোহার উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তবে অভিযুক্ত সে সব হকার ও দোকানিদের সাথে কথা বলতে গেলে কেউ মুখ খোলেননি।

দোহার পৌরসভার মেয়র আলমাছ উদ্দিন বলেন, আমি নিজেও দেখেছি জয়পাড়া বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। সে জন্য আমি পৌরসভার পক্ষ থেকে জয়পাড়া বাজারে মাইকিং করিয়েছি এবং তাদের সময় দেওয়া হয়েছে যদি না সরায় আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব। ফুটপাত ভাড়া দেওয়া বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যদি প্রমাণ পাই যে ফুটপাত ভাড়া দেওয়া হয়েছে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমি নিজে থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাশ্বের আলম বলেন, শীতের সকালে বিভিন্ন সবজির দোকান ঘণ্টাখানেকের জন্য বসে। পরে ফুটপাত ফাঁকা হয়ে যায়। দোকান মালিকরা টাকার বিনিময় হকারদের সেখানে বসিয়ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।