২০২২

বাল্যবিবাহ কমেছে

বাল্যবিবাহের হার ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে ৯৪ শতাংশ কমেছে। ২০২১ সালে দেশের ২০ জেলায় ৪১ হাজার ৯৫টি বাল্যবিবাহের সংবাদ প্রকাশিত হয়। ২০২২ সালে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে দুই হাজার একটি।

মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ শিশু পরিস্থিতি-২০২২ সংবাদপত্রের পাতা থেকে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।

এমজেএফ আরও জানায়, ধর্ষণের শিকার শিশুর মধ্যে দুই বছর বয়সীও রয়েছে। তিন থেকে ১২ বছর পর্যন্ত শিশুরা বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। বেশির ভাগ শিশুকে খেলার সময় লোভ দেখিয়ে পরিচিতরা ধর্ষণ করছে। এ ছাড়া কিশোরীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বন্ধু, কর্মক্ষেত্রে, স্কুলে যাওয়ার পথে ও পরিবারে। তবে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে শিশু ধর্ষণের হার কমেছে ৩১.৫ শতাংশ। গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৫৬০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ৯৮ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছে ১২ মেয়েশিশু। ২০২১ সালে শিশু ধর্ষণের এই সংখ্যা ছিল ৮১৮ জন।

এদিকে যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুর সংখ্যা কমলেও ছেলেশিশুকে যৌন নির্যাতনের হার আগের বছরের তুলনায় ২০২২ সালে বেড়েছে। গত বছর ৯৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ছেলেশিশুর সংখ্যা ২০ জন, যা ২০২১ সালে ছিল ছয়জন।

বিভিন্ন কারণে রিপোর্টকালীন আত্মহত্যা করেছে ৪৪টি শিশু, যা ২০২১ সালের তুলনায় কম। এদিকে ২০২১ সালে আত্মহত্যা করা শিশুর সংখ্যা ছিল বেশি, ৭৮ জন। তাদের মধ্যে ছেলেশিশু ৫৭ জন ও মেয়েশিশু ২১ জন।

এ ছাড়া গত বছর অপহরণের শিকার হয়েছে ৩০ জন শিশু। কারণ হিসেবে টাকা, প্রেম, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, প্রতিশোধ গ্রহণ, পাচার ও মুক্তিপণ দাবির কথা সংবাদে প্রকাশ করা হয়েছে। শিশুকে নিয়ে ২৬টি বিষয়ের ওপর নেতিবাচক খবর ছাপা হয়েছে দুই হাজার ২৮টি। অন্যদিকে ইতিবাচক সংবাদ ছাপা হয়েছে ১২টি বিষয়ের ওপর ৬৭টি।

২০২২ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে শিশুমৃত্যুর হার বেড়েছে। ২০২২ সালে ৩১১ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ৪২ শিশুকে। ২০২১ সালে হত্যার শিকার হয়েছিল ১৮৩ জন শিশু। সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২১ সালে ৬৯ শিশু নিহত হলেও ২০২২ সালে এসে সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৯৬।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অতিথি ছিলেন আরমান খান, সহকারী পরিচালক (সমাজসেবা অধিদপ্তর), রোকসানা বেগম, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এবং অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, চেয়ারপারসন, আইন অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘বাংলাদেশ শিশু পরিস্থিতি ২০২২-এর সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করেন এমজেএফের কো-অর্ডিনেটর রাফেজা শাহীন।