গাজীপুর মহানগরীর পুবাইলের বসুগাঁও এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম (টঙ্গী-ভৈরব) রেল রুটে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’-এর ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলো গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার তিনথোপা এলাকার আব্দুল রহিমের ছেলে মিলন মিয়া (১৯) এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামের নুরু মিয়ার মেয়ে ঝর্ণা আক্তার (২৫)।
স্থানীয়রা জানান, নিহত দুজনই গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া বাসায় থেকে একই গার্মেন্টসে চাকরি করত। দুপুরে তারা তাদের কর্মস্থল থেকে বের হয়ে খাবার খাওয়ার জন্য তাদের বাসায় যাচ্ছিল। এ সময় দুজনের অসাবধানতার কারণে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি ট্রেন তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা দুজন নিহত হয়। নিহত মিলন মিয়া সহকারী অপারেটর ও ঝর্ণা শ্রমিক হিসেবে স্থানীয় নৈপাড়া এলাকার প্রাইম সুয়েটার লিমিটেড নামক পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ট্রেনে কাটা পড়ে দুই শ্রমিক নিহতের বিষয়টি প্রাইম সুয়েটার কারখানার অ্যাডমিন মাহবুবর রহমান উজ্জ্বল নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে একজন নারী পোশাককর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পুরুষ শ্রমিকের মরদেহটি তার স্বজনরা নিয়ে যায়। পরে ওই পুরুষের মরদেহটিও উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে, গাজীপুর মহানগরীর একই এলাকায় একটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ওই রেললাইন দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন ঢ়চলাচল বন্ধ ছিল।
জানা যায়, ঢাকাগামী এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল তালটিয়া এলাকায় এসে পৌঁছালে ট্রেনের ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে যায়।
এ সময় ট্রেনটি ওই স্থানে থেমে থাকে। এতে ওই রুট দিয়ে চলাচলকারী সব ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবেই বন্ধ থাকে।
টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রাকিবুল রহমান জানান, বিকল হয়ে যাওয়া ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ট্রেনটি টেনে নেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে বিকল্প ইঞ্জিন সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে ওই ট্রেনকে টেনে ঢাকায় নিয়ে যায়। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে বিকল্প রেললাইন থাকায় ট্রেন চলাচনে কোনো বিঘ্ন হয়নি।