রাঙ্গাবালীতে শোরগোল

কালো হাঁসের কালো ডিম!

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার নদীবেষ্টিত দ্বীপ চরবিশ্বাস ইউনিয়নে ক্লোজার বাজার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সরদার ও লাইজু আক্তার দম্পতির বাড়ির দেশি পাতিহাঁস কালো ডিম পেড়েছে। গত পাঁচ দিনে পাতিহাঁসটি পাঁচটি কালো ডিম পেড়েছে। আজও দেশি পাতিহাঁসটি একটি কালো ডিম পেড়েছে। আর এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ডিমগুলো দেখতে আসছে।

জানা গেছে, চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ক্লোজার বাজার এলাকার গৃহবধূ লাইজু আক্তার বন্যা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় প্রজাতির ১০টি পাতিহাঁস পালন করেন। এর মধ্যে গত সোমবার প্রথম খামারের একটি কালো রঙের পাতিহাঁস একটি কালো ডিম পাড়ে। পরদিন আবারও সেই দেশি পাতিহাঁস কালো ডিম পাড়ার পর এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

লাইজু আক্তার বলেন, আমি ১০টি হাঁস পালন করি। এর আগেও বাড়িতে দেশি হাঁস পালন করি। সেই হাঁসের ডিম থেকে এই বাচ্চা ফুটানো হয়েছে। এখন সেই হাঁসই কালো ডিম পাড়ছে। তিনি তার হাঁসগুলোকে স্বাভাবিক খাবারই খেতে দেন। তারপরেও কেন কালো ডিম পেড়েছে তা বুঝতে পারছি না।

মোহাম্মদ সরদার জানান, আজ একটি কালো ডিম পেড়েছে হাঁসটি। প্রথম তিন দিনের পাড়া ডিমগুলো ছিল কুচকুচে কালো। বৃহস্পতি ও শুক্রবার পাড়া ডিম দুটির কোথাও কোথাও নীলচে ছোপ রয়েছে। আগের ডিমের তুলনায় কালো অনেকটা কম দেখাচ্ছে। কৌতূহল নিয়ে তিনি একটি কালো ডিম ভেঙেছেন। তবে তার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পাননি। অন্য ডিমের মতোই এগুলো স্বাভাবিক এবং ডিমের স্বাদও একই। অপর চারটি ডিম তিনি একটি আলাদা খাঁচায় রেখেছেন। লোকজন আসছে, দেখে যাচ্ছে।

গলাচিপা উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাশ বলেন, তাদের দপ্তর থেকে ওই বাড়িতে যাওয়া হয়েছে। আজকে পাড়া ডিম আগের পাড়া ডিমের থেকে কম কালো। ডিমের এক স্থানে নীলচে ছোপ। তারা হাঁস ও ডিম পাড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। দেশীয় প্রজাতির হাঁসটি কোনো কারণে হয়তো বেন্ডিং জাতের হাঁসের সঙ্গে ক্রস হতে পারে। বেন্ডিং জাতের হাঁস নীল বর্ণের ডিম দেয়। তবে কালো ডিম কেন পাড়ছে এ ব্যাপারে এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে হরমোনের কারণেও হতে পারে। আপাতত এটিকে স্বাভাবিক হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে।