রাশিয়ার বিরোধিতা উপেক্ষা করে ‘কৃষ্ণ সাগরের মুক্তা’ হিসেবে পরিচিত ইউক্রেনের বন্দরনগরী ওদেসাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দিল ইউনেস্কো। গত বুধবার জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থাটির বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি এ স্বীকৃতি দেয়। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই আলোচনায় এসেছে ওদেসা। সমুদ্রবন্দরের কারণে পূর্ব ইউরোপের অন্যতম বাণিজ্যিক নগর এটি। ‘কৃষ্ণসাগরের মুক্তা’ হিসেবে পরিচিত বন্দরনগরীটির আছে হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। শুধু ইউক্রেনেরই নয়, প্রাচীন রুশ সাম্রাজ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এ শহর। ১৬২ বর্গকিলোমিটারের ওদেসার গুরুত্ব রয়েছে গোটা পূর্ব ইউরোপেই। ওদেসার প্রাচীন নাম হাডজিবেই। প্রচলিত আছে, ১৮ শতকের শেষদিকে রুশ সম্রাজ্ঞী ‘ক্যাথরিন দ্য গ্রেট’ ওদেসাকে রাশিয়ার সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৮১০ সালে নির্মিত অপেরা হাউজ ওদেসার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা।
বন্দরনগরীটির আরেক নিদর্শন পটেমকিন সিঁড়ি। সোভিয়েত আমলে নির্মিত সের্গেই আইজেনস্টেইনের নির্বাক চলচ্চিত্র ব্যাটেলশিপ পটেমকিনের কারণে ব্যাপক পরিচিতি পায় বিশাল আকৃতির এই সিঁড়ি। পরে সিনেমার নামেই এর নামকরণ করা হয়। ওদেসা মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টস এবং ওদেসা মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টসহ আরও বেশ কিছু স্থাপনা রয়েছে শহরটিতে। চলমান রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে বেশ কয়েকবার আঘাত পেয়েছে ওদেসা। যুদ্ধের শুরু থেকেই ওদেসাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ইউক্রেনের সরকার। এবার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ওদেসাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিল ইউনেস্কো। ফলে এখন থেকে ওদেসার ইচ্ছাকৃত ক্ষতিসাধন হবে ইউনেস্কোর নীতিমালা পরিপন্থী। ইউনেস্কোর মহাসচিব আদ্রে আজুলে বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্গত হিসেবে এখন থেকে বিবেচিত হবে শহরটি। এর সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কারণেই এ স্বীকৃতি। এখন থেকে ওদেসার সুরক্ষায় নানা আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে। আমাদের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে যেখানে ১৯৪টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। কাজেই ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্ব ঐতিহ্যের ক্ষতিসাধন হবে নীতিমালা পরিপন্থী।’ যদিও ইউনেস্কোর এ সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করেছে রাশিয়া। তাদের দাবি, পশ্চিমা প্রভাবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গান গেয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংস্থাটিতে নিযুক্ত রুশ প্রতিনিধি।