হস্তরেখাবিদ জাফর ইকবাল

বাংলা ভাষায় কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যকে যারা জনপ্রিয় করেছেন তাদের মধ্যে মুহম্মদ জাফর ইকবাল অন্যতম। বাড়িতে সাহিত্যচর্চার আবহ ছিল। নিজে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র। বিজ্ঞান ও সাহিত্যের সম্মিলন ঘটতে তাই দেরি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জীবনকে তিনি উল্লেখ করেছেন তার সবচেয়ে সুন্দর সময়, জীবনের রঙিন সময় হিসেবে।

ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন হস্তরেখাবিদ। মানে দক্ষিণার বিনিময়ে বন্ধুবান্ধব, সহপাঠী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের হাত দেখে ভবিষ্যৎ গণনা করতেন। এর জন্য তাকে দিতে হতো দামি এক প্যাকেট (গোল্ড ফ্ল্যাক) সিগারেট। হাত দেখার শুরুটা অবশ্য বাড়ি থেকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সেটা শুরু হয়ে যায় বাড়াবাড়ি রকমের। জাফর ইকবাল যে কী পরিমাণ দুষ্টু ছিলেন ছাত্রজীবনে তা এই ঘটনা থেকে বোঝা যাবে। তিনি তার রঙিন চশমা বইয়ে লিখেছেন, হাত দেখার নাম করে সুন্দরী সহপাঠীদের হাত ধরে বসে থাকতেন তিনি। হাদিয়া হিসেবে দামি সিগারেট ছিলই। ক্লাসের সব মেয়ে হাত দেখালেও একজন হাত দেখায়নি তখন পর্যন্ত। মেয়েটির নাম, ইয়াসমিন হক। একদিন সেও এলো। তার হাত দেখে জাফর ইকবাল বলেছিলেন, ইয়াসমিনের বিয়ে হবে এক বড়লোকের সঙ্গে। মজার ব্যাপার হলো, কয়েক বছর পরে এই মেয়েটির সঙ্গে জাফর ইকবালের বিয়ে হয়। বাসর রাতে প্রথম সুযোগেই নবপরিণীতা স্ত্রী তাকে প্রশ্ন করছিলেন, এই যে সাহেব, খুব যে বলেছিলে বড়লোকের সঙ্গে বিয়ে হবে! বিয়ের খরচের জন্য জাফর ইকবাল স্ত্রীর (তখনো জাফর ইকবালের স্ত্রী হননি ইয়াসমিন হক) কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করেছিলেন। ফলে অর্থের দিক থেকে বড়লোক ছিলেন তা বলার উপায় ছিল না তার। আমতা আমতা করে, ‘না, মানে ইয়ে-বড়লোক শুধু কি টাকা-পয়সা দিয়ে হয়! একজন মানুষ তো তার মন দিয়েও বড় হয়। হৃদয় দিয়ে বড় হয়; বুদ্ধি মেধা কিংবা মনন দিয়ে বড় হয়...’ ইত্যাদি বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিয়ের পরে তার হস্তরেখাবিদ পেশার অবসান ঘটে। 

সুলতানা রাজিয়া, রঙিন চশমা অবলম্বনে