কলেজের প্রথম দিনেই উৎসবের খবর পেলাম

আমার ক্যাম্পাস নিজামপুর সরকারি কলেজের প্রথম দিন ছিল ২ মার্চ ২০২২। সেদিন ছিল কলেজের নবীনবরণ। সকাল ৯টায় একসঙ্গে রওনা হলাম ইমাম, প্রান্ত, শাহীন আর আমি। শাহিন আর ইমাম অবশ্য ভর্তি হয়েছে মীরসরাই কলেজে। সিএনজি করে চারজন চলে গেলাম চৈতন্যের হাট পর্যন্ত। সেখান থেকে কলেজে যেতে হবে বাসে। লোকাল বাস হওয়ায় বাসে প্রচুর যাত্রী ছিল। বসার আসন খালি না থাকায় কলেজ যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়েই গেলাম।

মীরসরাই কলেজের সামনে এলে ইমাম আর শাহীন বাস থেকে নেমে যায়। এবার বাসের মধ্যে আমি আর প্রান্ত ছাড়া অন্য সবাই আমাদের অচেনা। বাসে ওঠার আধাঘণ্টা পর পৌঁছে গেলাম কলেজে।

 সেদিন কলেজে সবাই নতুন। সবাই অচেনা। প্রান্তের এক আত্মীয় এই কলেজেই ভর্তি হয়েছে। নাম সজীব। তার সঙ্গে পরিচিত হলাম। সজীব আর আমি ক্লাসে ঢুকলাম। প্রান্তের শ্রেণিকক্ষ ভিন্ন। আমার ক্লাসরুম নম্বর ছিল ২২। এই রুমটি অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা বড়। তাই এ রুমে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি। আমার আর সজীবের সঙ্গে আরও দুজন সহপাঠী ছিল। তাদের সঙ্গে পরিচিত হলাম।

এরপর আমাদের ক্লাসে কলেজের ওপরের শিক্ষার্থীরা এলেন। সবাই দাঁড়িয়ে তাদের সালাম দিলাম। তারা স্বাগত বক্তব্য দিয়ে আমাদের হাতে তুলে দিলেন একটি করে গোলাপ।

একটু পরে এলেন কলেজের অধ্যক্ষ। সঙ্গে অন্যা শিক্ষকরা। আমরা সবাই দাঁড়িয়ে তাদের সালাম দিলাম। অধ্যক্ষ স্যার অন্য স্যারদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলেন এবং বলে দিলেন কোন স্যার আমাদের কোন বিষয়ে পড়াবেন। স্যাররা থাকতে থাকতেই একটি বিজ্ঞপ্তি এলো। পরের দিন ৩ মার্চ আমাদের কলেজে বসন্ত ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাম্পাসে পা দিতে না দিতেই এমন উৎসবের খবর শুনে আমরা খুব আনন্দিত হলাম। বুঝলাম ক্যাম্পাসে আগামী দিনগুলো ভীষণ আনন্দের হতে চলেছে। আনন্দের এক অনুভূতি নিয়ে ফিরলাম বাড়ি।

সাইদুর রহমান সাঈদ

শিক্ষার্থী, নিজামপুর সরকারি কলেজ, মীরসরাই, চট্টগ্রাম।