রোমাঞ্চকর জয় কুমিল্লার

শেষ ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ওপর ভরসা করে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ১৬ রান আগলে রেখেছিলেন এই অফস্পিনার। বিপিএলেও গতকাল শেষ ওভারে যখন খুলনা টাইগার্সের চাই ১৭ রান, মোসাদ্দেকের হাতে বল দিয়েছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন অফস্পিনার। ৪ বলে ১১ রান দেওয়া শেষ বলে ছক্কা মারতে হতো ইয়াসির আলিকে। কিন্তু মোসাদ্দেক ১ রানে আটকে দিয়ে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন কুমিল্লাকে।

বিপিএলের সিলেট পর্বে প্রথম দিন দুই ম্যাচই জেতে পরে ব্যাট করা দল। গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে খুলনা ব্যাটিংয়ে পাঠায় কুমিল্লাকে। ওপেনিংয়ে ৬৫ রানের জুটি গড়েন লিটন কুমার দাস ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। লিটন ৯ চারে ৪২ বলে ৫০ করে ফিরলে জুটি ভাঙে। চলতি বিপিএলে এটি লিটনের দ্বিতীয় ফিফটি। ওপেনিংয়ে ভালো জুটি হলেও রান উঠেছে ধীরে। লিটন যখন ফেরেন ইনিংসের দশ ওভার (৯.৫) শেষ। দ্বিতীয় উইকেটেও হলো ৬০ রানের জুটি। তবে এবার মারমুখী ছিলেন জনসন চার্লস। ৫ ছক্কায় ২২ বলে ৩৯ করেন। আসরে দ্বিতীয় ফিফটিতে রিজওয়ান ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ৪৭ বল খেলে। তার ইনিংসে ছিল চারটি করে চার ও এক ছক্কা।

রান তাড়ার খুলনার শুরুটা ভালো হয়নি। শুরুতেই পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার নাসিম শাহ তুলে নেন তামিম ইকবালকে (১১)। এরপর খুলনার দুই নতুন বিদেশি ওপেনার অ্যান্ড্রু বলবার্নি ও শাই হোপ জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামলান। তারা রান করেন ধীর গতিতে। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ৪৯ রানের জুটিটি এসেছে ৪০ বলে। বলবার্নি ৩১ বলে ৩৮ রান করে হন রানআউট।

দলীয় ৬৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসে ১৩ বলে ২৬ রান যোগ করেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর আজম খান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দ্রুতই ফেরেন। ধীর ব্যাটিংয়ে শেষ পাঁচ ওভারে খুলনার দরকার ছিল ৪৯ রান। সে সময় ক্রিজে থাকা ইয়াসির ১৯ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকলেও হোপের ধীর ব্যাটিং হারের শঙ্কা বাড়ায় খুলনার। হোপ ফেরেন ৩২ বলে ৩৩ করে। শেষ পর্যন্ত কুমিল্লা জেতে ৪ রানে। কুমিল্লার নাসিম শাহ ২৯ রানে নেন ২ উইকেট।

দিনের পরের ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্স ৭ উইকেটে হারায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া চট্টগ্রাম শুভাগত হোম ও মেহেদী মারুফের ফিফটিতে তোলে ৬ উইকেটে ১৭৪ রান। জবাব দিতে নেমে ওপেনিংয়ে ৬৩ রানের জুটি গড়েন তৌহিদ হৃদয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৪৪ বলে ৬০ করেন শান্ত। এরপর রায়ান বার্ল খেলেন দুর্দান্ত ইনিংস। ৪টি চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ১৬ বলে করেন ৪১। এছাড়া মুশফিক অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ফিরেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স।