যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
রোববার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত শক্তিশালী দেশ উল্লেখ্য করে ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, এই শক্তিশালী দেশের সঙ্গে আমাদের এমনভাবে চলতে হবে, যাতে সম্পর্ক অত্যন্ত উন্নত হয়।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ভারত ছাড়াও রাশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, জাপান, আরব আমিরাতসহ অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ রয়েছে। প্রত্যেকের সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক বজায় রেখেছি।
আবদুল মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বন্ধু বলেই অনেক সুপারিশ দেয়। ভালো সুপারিশ আমরা গ্রহণ করব। সবকিছুতে আমরা ভালো হয়ে গেছি, বিষয়টি সেরকমও নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সৃষ্টি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। সে কারণে এখানকার গণতন্ত্র নিয়ে অন্যদের (বিদেশি) বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই।
তিনি বলেন, যেকোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি সেই দেশের স্বার্থে তৈরি করা হয়। দেশের বাস্তবিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হয়। আমাদের দেশের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিত আমাদের জানতে হবে। রাজনৈতিক যে দিক-দর্শন সেটাও আমাদের জানতে হবে। আমরা এখন খুব ইন্টারডিপেনডেন্ট বিশ্বে থাকি। খুব ডিপেনডেন্ট, একটা কিছু হলেই ঝামেলা হয়ে যায়। এ অবস্থায় আছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে সোনালী অধ্যায় সৃষ্টি হয়েছে। খুব সুন্দর সম্পর্ক। ভারত এ বছর জি-২০ প্রেসিডেন্সি পেয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া থেকে একটি দেশকে দাওয়াত করেছে। আমরা এটার সদস্য না। এই যে সম্মান তারা আমাদের দিয়েছে, এটা সম্ভব হয়েছে; সুসম্পর্কের কারণে বলেন তিনি।
চীনের প্রসঙ্গ টেনে মোমেন বলেন, চীন আমাদের বড় উন্নয়ন সহযোগী। তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য অনেক বেশি। তারাও চাচ্ছে বাণিজ্য আরও বাড়ানোর জন্য। তাদের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক।
তিনটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই যে ব্যালেন্স, এটা সহজ নয়। আমাদের একজন বড় নেতা আছেন শেখ হাসিনা। খুব বাস্তববাদী নেতা। তার ফলে আমাদের এটা সম্ভব হয়েছে।