ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

শেষ সময়ে দর্শনার্থীর চেয়ে ক্রেতা বেশি

আর মাত্র এক দিন। ৩১ জানুয়ারি শেষ হবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৭তম আসর। গতকাল রবিবার সরকারি ছুটির দিন না হওয়ার পরও মেলা শেষের দিকে হওয়ায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মেলার প্রতিটি স্টলে চলছে ছাড়ের ছড়াছড়ি। মেলার স্টলগুলোতে বিভিন্ন পণ্যে ১০-৭০ শতাংশ ছাড় দেওয়ায় দর্শনার্থীরা নিজেদের পছন্দের পণ্য কিনছেন। প্রথম দিকে অনেকেই মেলায় না এলেও শেষের দিকে পণ্যের লোভনীয় ছাড়ে মেলায় এসে কেনাকাটা করে মনের মতো।

মেলায় নারীদের পছন্দের শীর্ষে ছিল কসমেটিকস ও গৃহস্থালি পণ্য। এদিকে শীত শেষ হয়ে কিছুটা গরম পড়ার কারণে ইগলু আইসক্রিমসহ আইসক্রিমের স্টলগুলোতে ভিড় দেখা গেছে।

মেলায় আসা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রথমদিকে মেলা প্রাঙ্গণ অপ্রস্তুত থাকার কারণে আমাদের তেমন ব্যবসা হয়নি। তবে মেলা শেষের দিকে হওয়ায় আমরা অনেক ছাড় দিচ্ছি সব পণ্যে। এ কারণে আমাদের বিক্রিও অনেক বেড়েছে। যে পরিমাণ টাকা নিয়ে এ বছর দোকান বরাদ্দ নিতে হয়েছে তা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এ কারণে বিক্রি বাড়ার পরও আমাদের লোকসান হবে। এ কারণে আমরা মেলার সময় বাড়ানোর জন্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ইপিবি মেলার সময় বাড়ায়নি।

গৃহিণী রিনা আক্তার জানান, মেলার আরএফএফ প্যাভিলিয়ন থেকে একটি রাইস কুকার কিনলাম ২০ শতাংশ ছাড়ে। মেলা শেষের দিকে হওয়ার কারণে প্রতিটি দোকানে দেখলাম অনেক ছাড় দিচ্ছে। তাই ছাড় পেয়ে ঘরের জন্য রাইস কুকারের পাশাপাশি আরও কিছু জিনিস কিনে নিলাম। 

রাজধানী উত্তরা থেকে আসা আয়েশা আক্তার বলেন, মেলায় শেষের দিকে অনেক ছাড় দেয় তাই ঘরের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি।

মেলার বিআরটিসি বাস কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখে সিএনজি খুঁজতে দেখা গেছে সোহেল নামে দর্শনার্থীকে। তিনি বলেন, অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। বাস না আসায় সিএনজি খুঁজছি। মেলায় আসা-যাওয়ার জন্য বাস সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত। এ ছাড়া বাস কাউন্টারে অনেক বিশৃঙ্খা রয়েছে। এ কারণে বাস কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

এ ব্যাপারে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও বাণিজ্যমেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলা পর্যন্ত বিআরটিসির ৬০-৭০টি বাস চলাচল করে। বাস কাউন্টারের সামনে প্রতিনিয়ত বাস থাকে। সরকারি ছুটির দিনে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়। মেলায় যাতায়াতে বাস পর্যাপ্ত নয় এমন অভিযোগ মিথ্যা। মেলার বাইরে কাউন্টারের সামনে বাড়তি বাস সবসময় থাকে।