রোজায় দামি বিদেশি ফল আমদানি বন্ধে সুপারিশ

রমজান মাস ঘিরে বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি চাহিদা থাকে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়। তবে এবার পরিস্থিতি (ডলার সংকট এবং এলসি বন্ধ) ভিন্ন হওয়ায় আসছে রমজান মাসে বাজার স্থিতিশীল রাখতে অতি দামি বিদেশি ফল আমদানি বন্ধ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে দেশীয় ফল খাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার পাইকারি ও খুচরা ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এএইচএম সফিকুজ্জামান এ আহ্বান জানান।

সভায় অধিদপ্তরের ডিজি বলেন, ‘গ্রামের একেবারে প্রত্যন্ত বাজারে গেলেও থরে থরে বিদেশি ফল সাজানো দেখা যায়। এতে দেশ থেকে প্রতিনিয়ত ডলার বেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ আমাদের দেশীয় ফলের প্রাচুর্যতাও কম নয়। পুষ্টির দিক দিয়েও দেশি ফল কোনো অংশে কম নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি। তাই দেশি ফলের উৎপাদন বাড়াতে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বছরই রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। এবার ডলার সংকটের কারণে চ্যালেঞ্জ আরও বেশি হবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসহ সব সংস্থার সম্পৃক্ততা দরকার। যাতে এ সময় সবাই সহনশীল আচরণ করে এবং খাদ্য সাশ্রয় করতে পারি।’

তবে রমজানে চাহিদা মেটাতে খেজুর, মাল্টা, আঙুর, কমলার মতো কিছু বিদেশি ফল আমদানির জন্য এলসি খোলার সুপারিশ করা হবে জানিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রধান বলেন, ‘এর বাইরে যেসব বিলাসী ফল রয়েছে সেগুলোর আমদানি নিরুৎসাহিত করা হবে।’

তবে শুধু দেশি ফল দিয়ে রমজানের চাহিদা মিটবে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। সভায় বাংলাদেশ ফ্রেশফ্রুট ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর রমজান মার্চের শেষে হবে। এ সময় দেশীয় ফলমূল খুব একটি বেশি থাকে না। শুধু তরমুজ, কলা, আনারস, পেয়ারা ও বরই পাওয়া যাবে। দেশীয় ফলের ভরা মৌসুম শুরু হয় মে মাসে। তখন ফল আমদানি না করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এখন ফল আমদানি না করলে চাহিদা মেটানো যাবে না।’