মটর দানার সমান ছোট্ট এক জিনিস কিন্তু ভয়ানক এর প্রতিক্রিয়া, বলা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার এক তেজস্ক্রিয় ক্যাপসুলের কথা। কারণ এটি যে-সে ক্যাপসুল নয়, মারাত্মক দাহ্য ও ক্ষতিকর সিজিয়াম-১৩৭-এ ভর্তি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে অস্ট্রেলিয়ার এক খনি থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার সময় ক্ষুদ্র ক্যাপসুলটি হারিয়ে যায়। মাত্র ৬ মিলিমিটার ব্যাস এবং ৮ মিলিমিটার লম্বা ওই ক্যাপসুলটি হারিয়ে যাওয়ার পর মহাদুশ্চিন্তায় পড়ে দেশটির সরকার। তবে ছয় দিনের অভিযানে অবশেষে গতকাল বুধবার ক্যাপসুলটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় খুঁজে পেয়েছে উদ্ধারকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, জরুরি পরিষেবার সদস্যরা যেন খড়ের গাদায় সুচ খুঁজে পেয়েছেন।
খনি প্রতিষ্ঠান রিও টিন্টো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল পিলবারার খনি গুদাই-দারিতে একটি ঘনত্ব পরিমাপক যন্ত্র বহন করছিল। এ যন্ত্রের ভেতর সিজিয়াম-১৩৭ ভর্তি ক্যাপসুলটি ছিল। খনি থেকে সড়কপথে যন্ত্রটি বহনের সময় গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে নিউম্যান ও পার্থ শহরের মধ্যবর্তী স্থানে হারিয়ে যায় ক্যাপসুলটি। এ দুই শহরের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। হারিয়ে যাওয়ার পরপরই ক্যাপসুলটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্কতা জারি করে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ক্যাপসুল স্পর্শ করলেও মারাত্মক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে বলে জানানো হয়। এমনকি এ থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা থেকে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি হতে পারেও বলে সতর্ক করা হয়। এরপর শুরু হয় বিস্তৃত খোঁজাখুঁজি। বিশেষ যন্ত্রাংশে সজ্জিত একটি গাড়ি ক্যাপসুলটির তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। রাস্তার পাশে প্রায় সাত ফুট দূরত্বে এটির সন্ধান মেলে। পরে সিরিয়াল নাম্বার দেখে ক্যাপসুলটিকে সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এটিকে এখন সিসার একটি কনটেইনারে রাখা হবে। এটি পার্থ শহরের একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে। এদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার এরকম বিপজ্জনক পদার্থ বহনে আইনগত বাধ্যবাধকতা ও সতর্কতা অবলম্বনে আরও কড়াকড়ি আরোপের কথা ভাবছে।