‘স্যার অফিসের কাজে উপজেলায় আছেন। আমরা আছি, ক্লাস নিতে কোনো সমস্যা হয় না। স্যারদের তো অধিকাংশ সময় অফিসের বিভিন্ন কাজে উপজেলায় থাকতে হয়।’ দুপুর ১২টা মুরাদনগর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষকের কথা জানতে চাইলে এমনই জবাব পাওয়া যায় ওই বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু মুরাদনগর উত্তর সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমানই না, প্রতিনিয়ত শিক্ষা অফিসের নাম ভাঙিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিচ্ছেন অনেক শিক্ষক নেতা ও স্কুলপ্রধানরা। শিক্ষকরা যেন ক্লাস ফাঁকি দিতে না পারেন, সে জন্য কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ১৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছে বায়োমেট্রিক হাজিরাযন্ত্র। সফটওয়্যারের অজুহাতে তিন বছরেও চালু হয়নি সেই হাজিরাযন্ত্র। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, মেশিন ক্রয়ে অনিয়ম নিয়ে।
প্রতিটি বিদ্যালয়ের সিøপের ফান্ড থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২২-৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাজার যাচাই করে মেশিন কেনার কথা থাকলেও অফিসের নির্দেশনায় একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে মেশিন কিনেছেন সবাই। ‘আইক্লক৯০০০-এ’ মডেলের হাজিরা মেশিনটির বাজারমূল্য আনুষঙ্গিক খরচসহ সাড়ে ৯-১০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। মেশিন কেনায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে।
মুরাদনগর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতা জানান, তাদের অফিসের কাজেই উপজেলায় যাওয়া হয়। এটা তাদের শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার সবাই জানেন। আর হাজিরা মেশিন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বন্ধ রয়েছে।
বাঙ্গরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মেশিন আমরা যাচাই-বাছাই করেই কিনেছি। দুই বছরের সার্ভিস, প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ মেশিন কিনতে দামটা বেশি পড়েছে। করোনার কারণে মেশিন চালু করতে পারিনি। আবার সার্ভিসের মেয়াদও চলে গেছে। তাই এ নিয়ে কিছু বলতে পারছি না।’
মুরাদনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফওজিয়া আকতার বলেন, ‘মেশিন কেনার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে শুনেছি সিøপের টাকা থেকে প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে হাজিরা মেশিন স্থাপন করেছে।’ মেশিনগুলো এখনো কেন চালু করা হয়নিÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে কোম্পানি থেকে এগুলো কেনা হয়েছে, মেশিনের সফটওয়্যার দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো তারা দেয়নি।’
মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল আলম সরকার কিশোর বলেন, ‘আমার যেটা মনে হয় শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়া বন্ধ করা মেশিন কেনার মূল লক্ষ্য ছিল না, মূল লক্ষ্য ছিল মেশিনের নামে ওই সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করা।’