জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। এই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রতিবাদে নিরাপদ ক্যাম্পাসসহ চার দফা দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাতে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে গেরুয়াগামী সড়কের মওলানা ভাসানী হল সংলগ্ন স্থানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে গুরুতর আহত হন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (৫১তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান। তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত জাহিদকে ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়ার পর এখন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আনিস বলেন, জাহিদের এখনও জ্ঞান ফেরেনি। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথার একটি হাড় ভেঙে গেছে। এখন আমরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। শুক্রবার এমআরআই করে বিস্তারিত বলা যাবে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে গেরুয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন জাহিদ। মওলানা ভাসানী হলের কাছে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা তার কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে দেখা হয়। তখন সে রাস্তা পার হওয়ার জন্য সড়কের ডান দিকে এগোলে পেছন থেকে মোটরসাইকেল এসে ধাক্কা দেয় তাকে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন দর্শন বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফেরদৌস মাহমুদ। একই সড়ক ধরে তিনিও গেরুয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার সময় একই স্থানে ছিলেন জাহিদের সহপাঠী আসিফ ইকবাল। তিনি অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, মোটরসাইকেলের গতি ছিল বেশি। মোটরসাইকেলটি চাকার নিচে নিয়ে প্রায় আট থেকে দশ ফুট দূরে গিয়ে ফেলে জাহিদকে।
গত মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম ব্যাচের ক্লাস শুরু হয়েছে। মাত্র দুদিন আগে ক্যাম্পাসে আসা একজন শিক্ষার্থীর এমন দুর্ঘটনার শিকার হওয়া নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করছেন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসের সড়কের বিশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কিত তারা।
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি রাকিব আহমেদ বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে একজন শিক্ষার্থী মেধার প্রমাণ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ক্যম্পাসে আসার দুদিনের মাথায় তার সাথে ঘটে যাওয়া এমন দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে বেপারোয়া গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা চাই, এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। গাড়ির লাইসেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো বিষয়গুলো যাচাই করে প্রচলিত আইনে যেন সঠিক বিচার হয় তার জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ছেলেটির ব্যাপারে খোঁজ-খবর রাখছি। আমরা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখবো।
এদিকে মোটরসাইকেলে ধাক্কায় শিক্ষার্থী আহতের খবর শুনে বিক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বহন করা, দুর্ঘটনায় দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া, রিকশাসহ যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রত্যেক হলের সামনে গতিরোধক স্থাপনের চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাত পৌনে তিনটায় দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে উপাচার্যের আশ্বাসে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।
তবে প্রথমদিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করার জন্য উপাচার্যের বাসভবনের দিকে যেতে চাইলে বাধা দিয়ে তাদের হলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে চৌরঙ্গী এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন বাঁধা দেন। তখন অনেকে হলে ফিরে যান। আবার হল থেকে বের হতে চাইলেও অনেকে বের হতে পারেননি।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণ করা হবে। এ ধরণের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।