শোয়েবের পাঁচশ, যেভাবে রাইডার্স রাঙাল

টি-টোয়েন্টিতে শোয়েব মালিকের অভিষেক হয় ১৬ বছর আগে। ২০০৫ সালের ২৬ এপ্রিল লাহোর ইগলসের বিপক্ষে শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নসের হয়ে প্রথমবার ক্রিকেটে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে খেলতে নামেন তিনি। আজ বিপিএলে ঢাকা ডমিনেটরসের বিপক্ষে রংপুর রাইডার্সের হয়ে মাঠে নেমেই ক্যারিয়ারের ৫০০তম ম্যাচে নাম লেখা হয়ে গেছে ৪১ বছর পূর্ণ করা এ অলরাউন্ডারের।

মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তার ৫০০তম ম্যাচটি বর্ণিলভাবে রাঙিয়েছে রংপুর রাইডার্স। সতীর্থরা তাকে দিয়েছেন গার্ড অব অনার।

টি-টোয়েন্টিতে ৫০০ ম্যাচ খেলা তৃতীয় ক্রিকেটার হলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক। সবার আগে এই কীর্তি ছুঁয়েছেন কাইরন পোলার্ড, এরপর ডোয়াইন ব্রাভো। সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের তালিকায় সবার ওপরে পোলার্ড, খেলেছেন ৬১৪টি আর ব্রাভো খেলেছেন ৫৫৬টি ম্যাচ।

শুধু ৫০০ ম্যাচই নয়। মালিকের নামের যুক্ত আছে আরও অনেক পরিসংখ্যান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৪৮টি ম্যাচ খেলে তালিকায় সবার ওপরে আছেন ভারতের রোহিত শর্মা। তারপরেই আছে মালিকের নাম। তিনি খেলেছেন ১২৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন ১২৩টি, ১টি খেলেছিলেন আইসিসি বিশ্ব একাদশের হয়ে।

তাছাড়া বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলেবেড়ানো মালিক ক্যারিয়ারে ২৭টি ভিন্ন ভিন্ন দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। পাকিস্তান ছাড়া সবচেয়ে বেশি ৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নসের হয়ে। আজকের ম্যাচে নামার আগে ৪৯৯ ম্যাচ খেলে করেছে ১২ হাজার ২৮০ রান। এখানেও তিনি দ্বিতীয়। ১৪ হাজার ৫৬২ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ক্রিস গেইল।

শুধু কি তাই! আছে ৭৫টি অর্ধশত বা তার বেশি রানের ইনিংস আছে শোয়েবের। এ তালিকায় তার ওপরে আছেন ছয়জন। তবে ক্যারিয়ারে কখনোই তিন অঙ্কের দেখা পাননি তিনি। টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি ছাড়া এত বেশি ফিফটি নেই আর কারও। ঝুলিতে আছে ১৬২টি উইকেট। এরমধ্যে দুইবার পেয়েছেন ৫ উইকেটের দেখা।

বিপিএলে ঢাকার বিপক্ষে ৫১তম ম্যাচ শোয়েবের। প্রথমবার ২০১৫ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলতে এসেছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত ৮ ফিফটিতে এই টুর্নামেন্টে করেছেন ১ হাজার ২৭৬ রান। বিপিএলে বিদেশিদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি রান আছে শুধু গেইলের, ১ হাজার ৭২৩।

এই সংস্করণে তিনি ৪১ বার হয়েছেন ম্যাচসেরা। তার ওপরে থাকা দুজনের মধ্যে ক্রিস গেইল ৬০ ও এবি ডি ভিলিয়ার্স ৪২ বার ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন।

তবে এতসব অর্জনের ভিড়ে আছে লজ্জার রেকর্ডও। এই সংস্করণে তিনি ৮৯ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই তালিকায় সবার শীর্ষে ছিলেন। পরে উস্টারশায়ারের বেন কক্স ভাঙেন সে রেকর্ড।