বাংলাদেশের উন্মাদনা দেখেছেন মেসি

বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনা ও মেসিকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা নজর কেড়েছে সারা বিশ্বে। কাতার বিশ্বকাপের সময় পাওয়া সমর্থনের জন্য বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদও দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মেসির পরিবারও সে সময় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। ওলে পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি জানালেন, বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা তিনি দেখেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।

আর্জেন্টাইন পত্রিকা ওলেতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতি, এমবাপ্পের সঙ্গে সম্পর্কসহ আরও নানা বিষয়ে কথা বলেন মেসি। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠে এলে মেসি বলেন, ‘আমি দেখেছি (বাংলাদেশের সমর্থন)। সব জায়গায় ১০ নম্বর জার্সি, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সোফি মার্তিনেজ (আর্জেন্টাইন সাংবাদিক) আমাকে দেখিয়েছিল। আর্জেন্টিনা ১০ নম্বর জার্সি এভাবে পৃথিবীর নানান প্রান্তে দেখা সত্যিই দুর্দান্ত।’ আর্জেন্টিনা দলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ছুঁয়ে গেছে আর্জেন্টাইনদের। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সমর্থনের বিষয়টি দেশটির গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আর্জেন্টাইনরা বুয়েনস আয়ার্সে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও উড়িয়েছিলেন। সেই সমর্থনের সূত্র ধরেই আর্জেন্টিনার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আগের চেয়ে জোরদার হয়েছে বাংলাদেশের।

কাতার বিশ্বকাপ খেলার আগেই মেসি বলেছিলেন, তার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ২০২২। তবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ে পরিস্থিতি বদলেছে। দলের কোচ এবং বাকি খেলোয়াড়রা চান মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও খেলুক। ‘আমি বলেছি, বয়সের কারণে এটি (২০২৬ বিশ্বকাপ খেলা) কঠিন হবে। আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। যদি খেলাটা আমি উপভোগ করি, শারীরিকভাবে ফিট থাকি, তাহলে চালিয়ে যাব। তবে পরবর্তী বিশ্বকাপ এখনো দেরি আছে। আমার ক্যারিয়ার কোন দিকে যাচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করছে।’ বলছিলেন মেসি।

মেসি ও এমবাপ্পে একসঙ্গে খেলছেন পিএসজিতে। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এমবাপ্পের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক কেমন সেটি জানার কৌতূহল অনেকের। বিশ্বকাপের পর ফাইনাল নিয়ে এমবাপ্পের সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মেসি জানান, ‘হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে ম্যাচ নিয়ে কথা হয়েছে। কীভাবে আর্জেন্টিনায় মানুষ উদযাপন করেছে, আমি ছুটিতে কী করেছি এগুলোই। এর বেশি কিছু নয়। এটি নিয়ে আর কিছু বলার নেই। সত্যটা হলো কিলিয়ানের সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা নেই।’

বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা আমাদের বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যদের যেভাবে বলে থাকি, ব্যাপারটা তেমনই। এটা ছিল সিনেমার শেষ দৃশ্য। মধুর সমাপ্তি হওয়ারই ছিল। আমি একবার বলেছিলাম, স্রষ্টা আমাকে একটা বিশ্বকাপ দেবেন। জানি না কী কারণে অনুভূতিটা এসেছিল। জোরালোই ছিল। আমার মনে হয়, স্রষ্টা সেরা সময়টাই বেছে নিয়েছেন। এভাবে শেষ করতে পারাটা দারুণ ব্যাপার।’

মেসি বার্সেলোনা ক্লাব ছেড়েছেন ২০২১ সালে। তবে বার্সেলোনা শহরে তিনি ফিরবেন সেটি আবারও জানালেন। ‘যখন আমার ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হবে বসবাসের জন্য বার্সেলোনায় ফিরব। এখানেই আমার বাড়ি।’