রাজশাহীতে পৌঁছায়নি ২৫% বই

এক মাস পার হয়ে গেলেও রাজশাহীতে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২৫ ভাগ বই এখনো পৌঁছায়নি। যে ক্লাসে বই আসেনি শিক্ষকরা ওয়েবসাইট থেকে সেই বই ডাউনলোড দিয়ে প্রিন্ট করে ক্লাস নিচ্ছেন।

বছরের প্রথম দিনই রাজশাহীর স্কুলে স্কুলে পৌঁছায় নতুন বই। ‘নতুন বছরে নতুন দিন, নতুন বইয়ে হোক রঙিন’ সেøাগানে রাজশাহী বিভাগের স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় নতুন পাঠ্যবই। তবে শতভাগ বই দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন ক্লাসের বিভিন্ন বিষয়ের বই আসেনি।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, বিভাগের আট জেলায় মোট চাহিদার ৭৪ দশমিক ৩৩ ভাগ বই হাতে পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিভাগে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলে ৫ হাজার ৮৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক রয়েছে ৩ হাজার ৯২টি। মাদ্রাসা রয়েছে ২ হাজার ২২৪টি এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৫৬৭টি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৪১ হাজার ১২৮ শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য নতুন পাঠ্যবইয়ের দরকার ২ কোটি ৯৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬১২টি। এর মধ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭৪ দশমিক ৩৩ ভাগ বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে ৭৩ দশমিক ৫০ ভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে।

রাজশাহী জেলাতে ১ হাজার ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩২ লাখ ৬ হাজার ৫৫টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পেয়েছে ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। নওগাঁ জেলায় ৮৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৬ লাখ ৭ হাজার ৪৩৪টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পেয়েছে ৭৬ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৪৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ২১ লাখ ৩ হাজার ৭৩০টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পেয়েছে ৭২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এখানে প্রাপ্ত বইয়ের সব বই-ই বিতরণ করা হয়েছে। নাটোর জেলায় ৫৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ৪ হাজার ৯৫৪টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পেয়েছে ৭১ শতাংশ। আর বিতরণ করা হয়েছে ৭০ শতাংশ।

বগুড়া জেলাতে ১ হাজার ৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৬ লাখ ৯ হাজার ৬টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পেয়েছে ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ। আর বিতরণ করা হয়েছে ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

জয়পুরহাট জেলায় ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ ৯ হাজার ৭৫৪টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পেয়েছে ৮১ দশমিক ৭২ শতাংশ। পাবনা জেলাতে ৬১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৭ লাখ ৩ হাজার ৬৭৬টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পেয়েছে ৮৫ শতাংশ। আর বিতরণ করা হয়েছে ৮০ শতাংশ। সিরাজগঞ্জ জেলায় ৮৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৮ লাখ ৬ হাজার ১৯টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পেয়েছে ৭৮ শতাংশ।

রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ক্লাস টিচার সাথী বসু বলেন, আমাদের স্কুলে অনেক বই এখনো পাইনি। যেসব বই পাইনি সেগুলো অনলাইন দিয়েই ক্লাস চলছে।

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. নুরজাহান বেগম বলেন, রাজশাহীর সব স্কুলেই শতভাগ বই পাওয়া যায়নি। আমাদের স্কুলেও শতভাগ বই নেই। যে বইগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের যে বইগুলো এখনো পাইনি সেগুলো অনলাইন থেকে শিক্ষকরা পিডিএফ ভার্সন নামিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ড. শারমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রতিদিনই বই আসছে। যেটা আসছে সেটা বিতরণ করা হচ্ছে। যে ক্লাসে যে বই আসেনি ওয়েবসাইটে সেই বইটা দেওয়া আছে। শিক্ষকরা সেই বইটা ডাউনলোড দিয়ে প্রিন্ট করে সেটি দিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই সব বই চলে আসবে। তখন এসব সমস্যার সমাধান হয়ে হবে।