কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকটে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কমেছে ১৯২ মেগাওয়াট। বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় শীত মৌসুমেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। অথচ এ কেন্দ্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাঙ্গামাটিতে বেড়েছে লোডশেডিং। এতে ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, সামনের গ্রীষ্মেও এর চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে না। ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বাড়বে।
জানা যায়, ষাটের দশকে কাপ্তাইয়ে স্থাপন করা হয় কাপ্তাই বাঁধ। যার উদ্দেশ্য ছিল পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। শুরুতেই দুটি ইউনিট নিয়ে শুরু হওয়া এ কেন্দ্রে বর্তমানে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে প্রতিদিন ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। জ¦ালানি ছাড়াই শুধু কাপ্তাই হ্রদের পানি ব্যবহার করে দেশের সবচেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কেন্দ্রটি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ে ৩৫ পয়সা। হ্রদে সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল এবং সর্বনিম্ন ৬৮ এমএসএল।
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সূত্রে আরও জানা যায়, এ প্রজেক্টে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়। সাধারণত বর্ষা মৌসুমেই কাপ্তাই হ্রদে যখন সর্বোচ্চ পানি থাকে, তখন পাঁচটি ইউনিট চালু করা হয়। বাকি সময়ে পানির স্তর কমতে থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইউনিট বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর রয়েছে ৮৩.১০ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। কিন্তু যেখানে হ্রদে রুলকার্ভ অনুযায়ী বর্তমানে পানি থাকার কথা ৯৬.৪৪ এমএসএল। প্রায় ১৩ ফুট পানি কম থাকার কারণে বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্তৃপক্ষ পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটি ইউনিট বন্ধ রেখেছে। ২ নম্বর ইউনিটটি চালু রেখে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আব্দুজ্জাহের বলেন, গত বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় হ্রদে পানিও রয়েছে কম। শীতের এ সময়ে আমরা মাত্র একটি ইউনিট চালু রাখতে পেরেছি। বাকিগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। হ্রদে যে পরিমাণ পানি আছে সামনের গ্রীষ্মকালে একটি ইউনিটের বেশি ইউনিট চালানো সম্ভব হবে না। বর্তমানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে সামনের গ্রীষ্মে এর চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কঠিন হবে। বর্ষার আগমুহূর্ত পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে।
এদিকে রাঙ্গামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুর রহমান বলেন, রাঙ্গামাটিতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কাপ্তাই প্রজেক্ট থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হয় না। তারা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে দেয়। তাই তাদের কমবেশি উৎপাদনের প্রভাব সম্বন্ধে আমি কিছু বলতে পারব না। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় শীতের এ সময়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।