ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে এক রাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১২টি মন্দিরে ১৪টি প্রতিমা ভাংচুরে ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এ ঘটনা শুধু ন্যাক্কারজনকই নয়, তা রহস্যজনক, পূর্বপরিকল্পিত এবং কলঙ্কজনকও। ’
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, এর আগেও বালিয়াডাঙ্গীতে ক্ষমতাসীন দলের এমপি, তার পরিবারের সদস্য এবং অনুগত লোকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করেছে। তাদের উপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। কিন্ত তখনও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন,‘ইতিপূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে যখনই হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি, সম্পদ, বাড়ি, ব্যবসা দখল, মন্দির, প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে, সেসব ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ’ বালিয়াডাঙ্গীর ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত নিরপেক্ষ তদন্ত করে তা খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘ বালিয়াডাঙ্গীতে এক রাতেই বিপুল সংখ্যক মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয় এবং গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সমগ্র এলাকায় হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা সামাজিক সম্প্রীতির অন্তরায়।’
‘যেসব মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার বেশিরভাগই সড়কের পাশে অবস্থিত। রাতে সাধারণত টহল পুলিশ থাকে। কিন্তু সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুপস্থিতিও রহস্যজনক। তাদের গাফিলতিতে দুর্বৃত্তরা অনায়াসে এত বিপুল সংখ্যক মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটাতে পেরেছে বলে সাধারণের ধারণা। সরকার এর দায় এড়াতে পারে না।’
এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত মানুষকে যেন হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারী খরচে প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ মন্দির পুণঃনির্মাণের দাবি জানান মির্জা ফখরুল।