কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য স্থাপিত কৃষি আবহাওয়া প্রযুক্তি কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ২০১৮ সালে মানিকগঞ্জ জেলার ৭টি উপজেলার ৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে একটি করে স্বয়ংক্রিয় রেইনগজ, ডিসপ্লে বোর্ড, ট্যাব কিয়স্ক দৃশ্যমান স্থানে স্থাপনের চার বছরেও এর কার্যক্রম স¤পর্কে কিছুই জানতে পারেননি কৃষকরা।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের কৃষকদের স্থানীয় আবহাওয়া সম্পর্কে অবগত করার জন্য উদ্যোগ নেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রকল্পটির ধারণা ছিল, পরিষদে স্থাপিত ডিসপ্লে বোর্ডে টাঙানো থাকবে আগামী তিন দিনের আবহাওয়া কৃষিবার্তা। পরিষদে প্রতিদিন শত শত মানুষের সমাগম হয়। তাই বেছে নেওয়া হয় এ পরিষদকে। কৃষি যন্ত্রপাতি ও ট্যাব ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ডিসপ্লে বোর্ডে আবহাওয়া কৃষিবার্তা আপডেট করবেন।
কিন্তু, ২০১৮ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলেও এক দিনের জন্যও কোনো কাজে লাগেনি এসব বোর্ড। ফলে সরকারের উদ্যোগটি সম্পর্কে কৃষকরা জানেই না। কোনো উপকারেই আসছে না প্রকল্পটি। যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে চলছে। প্রকল্পটির ব্যয় সম্পর্কেও স্থানীয় কর্মকর্তারা কিছু জানাতে পারেননি। তাদের ভাষ্য, এটা ঢাকা থেকে করা হয়েছে, তারাই জানে।
সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, এই যে শীতের মৌসুম গেল, কৃষি আবহাওয়া প্রযুক্তি আমাদের কোনো তথ্যই দিতে পারেনি। লাখ লাখ টাকার প্রকল্পের কোনো কাজেই আসল না।
একই গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, আমি কৃষক সংগঠন নিয়ে কাজ করি ১০-১২ বছর ধরে, অথচ ইউনিয়ন পরিষদে এই কৃষি আবহাওয়া প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে আমরা তা জানি না।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের এ প্রজেক্টটি খুবই সুন্দর। কিন্তু যথাযথ প্রচারের অভাবে সাধারণ কৃষক এর থেকে কোনো সুবিধাই পাচ্ছে না।
সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিষদে নিয়মিত কৃষি বিভাগের লোকজন এলেও কৃষি আবহাওয়া প্রযুক্তি নিয়ে কোনো কাজ করতে দেখিনি। বরং অযতœ ও অবহেলায় দিন দিন এর যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জ্ঞানের অভাব এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না কৃষি আবহাওয়া প্রযুক্তি। তবে আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। সমস্যাগুলো লিখিত আকারে প্রকল্পে পাঠিয়েছি। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে এ সমস্যাগুলো থাকবে না।