আন্দোলনের মুখে রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. কামরুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ^বিদ্যালয়ের সংস্থাপন বিভাগের উপরেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসুকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. কামরুল ইসলামকে অর্জিত ছুটিতে জাপানে যাওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসুকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ^বিদ্যালয় কর্মকর্তা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে চলতি বছরের  গত ৩০ জানুয়ারি তিনটি পর্যায়োন্নয়ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন ও লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। ১০ দিনের লাগাতার আন্দোলনের মুখে গতকাল দুপুরে পটুয়াখালী জেলা আ.লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আবদুল মান্নান, স্থানীয় আ.লীগের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধর্মঘটি কর্মকর্তাদের টানা সাড়ে ৪ ঘণ্টা সমঝোতা বৈঠকের পর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে ছুটিতে পাঠিয়ে দায়িত্বে অব্যাহতি ও ১ ফেব্রুয়ারি ৫১তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় পর্যায়োন্নয়ন প্রদানের আশ্বাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

এর আগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) পর্যায়োন্নয়ন ইস্যুতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে রেজিস্ট্রার অপসারণের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই গ্রুপে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে রেজিস্ট্রার কামরুল ইসলাম সমর্থিত গ্রুপ প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন বর্জনের ঘোষণা দেয়।

এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রেজিস্ট্রার সমর্থিত স্থানীয় ছাত্র, যুবলীগসহ স্বজন ও এলাকাবাসী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান গেটে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।