বরগুনার তালতলী থানার এক উপসহকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহকর্মী এক নারী উপসহকারী পুলিশ কর্মকর্তা বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। আসামি বরিশাল কোতোয়ালি থানার বামনকাঠি গ্রামের রায়হান তালুকদার। বাদী ও আসামি দুজনই একসময় বরগুনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করা হয়। বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মশিউর রহমান খান মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) সাত কর্মদিবসের মধ্য অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদীর স্বামী ভোলা সিআইডিতে কনস্টেবল পদে চাকরিরত অবস্থায় ২০২১ সালের ১২ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। স্বামী না থাকার সুযোগে একই স্থানে, একই পদে চাকরি করার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। আসামি বাদীর সন্তানসহ বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বাদী বলেন, ‘আসামি রায়হান আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় সাত লাখ টাকা নিয়েছে। তার পরও বিভিন্ন সময় নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। সর্বশেষ ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর রাত ১১টায় বরগুনা চরকলোনি আমার বাসায় গিয়ে ধর্ষণ করে। আমি রেজিস্ট্রি বিয়ে করতে বললে রায়হান অস্বীকার করে চলে যায়। তারপরও আমি রায়হানের সঙ্গে বহুবার কথা বলে বিয়ে করতে বলেছি। কিন্তু রাজি হয়নি। বরগুনা থানায় ৭ ফেব্রুয়ারি রায়হানের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি।’
এ বিষয়ে রায়হান তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাদীর মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাদী আমার চেয়ে বয়স ও সার্ভিসে সিনিয়র। আমি তার কাজে সহায়তা করতাম। আমার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। আমার সঙ্গে বিয়ে বসতে চেয়েছে বাদী। আমি বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আমার মান সম্মান নষ্ট করতে মামলা করেছে।’
বরগুনা থানার ওসি আলী আহমেদ বলেন, ‘বাদী বরগুনা থানায় মামলা করতে আসেনি। কেউ মামলা করতে এলে অবশ্যই মামলা নিতাম।’