কোনো বিদেশি প্রভুদের প্রেসক্রিপশনে নির্বাচন হবে না: শেখ পরশ

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, বিএনপি এখন চাচ্ছে লাশের রাজনীতি করতে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি বিভিন্ন অপচেষ্টা করবে। তারেক জিয়া চাচ্ছেন, বাংলাদেশে যাতে নির্বাচনটা না হয়। কারণ, তিনি মানি লন্ডারিং মামলা ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা তার বিরুদ্ধে চলছে। তিনি জানেন, সঠিক নির্বাচন হলে ১৫১ সিট তারা পাবেন না। তাই তারা লাশের রাজনীতি করে নির্বাচন বানচাল করতে। আমি তাদের বলতে চাই, নির্বাচন হবে জননেত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই এবং নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটা অবাধ, নিরপেক্ষ এবং যথাযথ পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। কোনো বিদেশি প্রভুদের প্রেসক্রিপশনে নির্বাচন হবে না।

আজ বুধবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়স্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবলীগের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর ও ১১ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ‘পদযাত্রা’র নামে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস, সহিংস রাজনীতি, প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, জনগণ ও পুলিশের ওপর হামলা, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতিসহ গাড়িতে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে যুবলীগ এই সমাবেশের আয়োজন করে।

শেখ পরশ বলেন, বিএনপির পদযাত্রায় কোনো জনসম্পৃক্ততা নাই, কারণ জনগণের ওপর তাদের অত্যাচারের কথা জনগণ ভুলে নাই। ২০১৪ সালের অগ্নিসংযোগের কথা জনগণ ভুলে নাই। সার ও বিদ্যুতের জন্য কৃষকদের ওপর গুলির কথা জনগণ ভুলে নাই। এ জন্য তারা হতাশায় ভুগেছে এবং সেই হতাশা থেকে তারা দিক বিদিক হারিয়ে ফেলেছে। তাদের সন্ত্রাসী চেহারা বের হয়ে আসছে। আসলে কিছু কিশোর গ্যাং এবং শিবিরের কর্মী দিয়ে তাদের মিছিল-মিটিং গরম করবে আর কত দিন?

সঞ্চালকের বক্তব্যে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, বিএনপি-জামাত একটি জঙ্গি সংগঠন, একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সংগঠন দেশকে ভালোবাসে না, দেশের মানুষকে ভালোবাসে না। এই সংগঠন যখনই রাজপথে এসেছে তখনই মানুষের জানমালের ওপর হামলা হয়েছে। বিএনপি যেকোনো সময় মানুষের ওপর হামলা করে জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারে। তাদের অতীত ইতিহাস সে কথাই বলে।

বিএনপি জামাতের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে যুবলীগের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের প্রতিবাদ সমাবেশ। একই দিন বিকাল ৪টায় ফার্মগেইট যুবলীগ চত্বরে ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের প্রতিবাদ সমাবেশ। ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর ব্যতীত দেশের সকল বিভাগীয় শহরে প্রতিবাদ সভা। ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রতিটি উপজেলা/থানা ও পৌরসভায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি সোমবার দেশের প্রতিটি জেলায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল। ২২ ফেব্রুয়ারি বুধবার ঢাকা মহানগরে জাতীয় সংসদের আসন ভিত্তিক এবং দেশের সকল মহানগরের প্রতিটি থানায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।